দখিনের সময় ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার অনুমতি দিয়ে জেলেনস্কি ‘বিশ্বের জন্য সমস্যা তৈরি করতে চান’। ট্রাম্প বলেন, “তার উচিত এসব বন্ধ করা।” এরপর তিনি বলেন, ইউক্রেনের এমন একজন নতুন নেতা দরকার, যিনি চুক্তি করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলসংক্রান্ত চুক্তির সমালোচনা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন এই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার লাখ লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হবে। জেলেনস্কির মতে, এতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ পাবে। তিনি এই চুক্তিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ‘উপহার’ বলে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি সরবারহকারী দেশ রাশিয়া এবং ইউক্রেন সম্প্রতি একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো ও পরিবহনব্যবস্থায় হামলা জোরদার করেছে। এতে জ্বালানির বাজারে সংকট আরও বেড়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা বলেছিলাম, রাশিয়ার বিরুদ্ধে তোমরা যা খুশি করতে পারো, কিন্তু তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা কোরো না। এতে বিশ্বজুড়ে সমস্যা তৈরি হয়।”
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘অসাধারণ ও ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ইউক্রেনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা প্রকৃত অর্থেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী। শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, রাশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় আগামী ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়া নতুন অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবে। সেই অর্থ দিয়ে তারা নতুন সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারবে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, মস্কো এই সমঝোতাকে এমনভাবে দেখছে, যেন তারা নতুন অর্থায়ন পেয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এবং শহরগুলোতে বোমা হামলা অব্যাহত রাখতে পারবে। ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে নতুন করে প্রাণঘাতী হামলার পর এই মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।