দখিনের সময় ডেস্ক:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৬টার দিকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।
এবার প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এই কদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আজাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আসিফ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও সাইমুম পারভেজ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এম হোসেন। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের প্রধান আইরিন খান, যুক্তরাষ্ট্র দূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামও প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন। বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছোট পরিসরে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে এই প্রথম জাতিসংঘ যাচ্ছেন। এত ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর সফর এই প্রথম। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অতীতে দেখা গেছে সরকারপ্রধানরা শতাধিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতেন।
একগুচ্ছ কর্মসূচি:
আগামী ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সফরে সাধারণ পরিষদে ভাষণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সাক্ষাতের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে পাওয়া সফরসূচি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সফরের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আগে ২২ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে এবং সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন। ওইদিন সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও সস্ত্রীক যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে (সাইড ইভেন্ট) অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ‘রোহিঙ্গা সংকট: টেকসই সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি’ শীর্ষক ইভেন্ট এবং বিকেলে ‘জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তর’ বিষয়ক বৈঠকে তিনি বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি’ এবং দুপুরে ‘মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তি’ বিষয়ক অনুষ্ঠানেও তিনি বক্তব্য দেবেন।
সফরে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়সূচিতে থাকছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ২২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন বিকেলে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, মেটা প্ল্যাটফর্মসের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে প্রাতরাশ বৈঠক অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন দুপুর ১টায় জাতিসংঘ ভবনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিকেলে বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডান নেলসনের সাক্ষাৎ এবং এই সফরে বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তিনি একান্ত বৈঠক করবেন। এ ছাড়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে পৃথকভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজ অংশ নেবেন তিনি।
নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিন শুক্রবার সকালে জেপি মরগান আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন বেলা ১১টায় কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, দুপুর ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) প্রধানমন্ত্রীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।