দখিনের সময় ডেস্ক:
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ ১১ রোববার। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ থেকে এই দুই অতিথির রোববার ও সোমবার দুটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা উদোক্তারা জানিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কথা জানানো হয়।
‘ওয়াল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’ -এ এবারের প্রতিপাদ্য ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন।’ বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বছর আবারও বার্লিনে সমবেত হচ্ছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। বিশ্ব স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতবিনিময় ও সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এ সম্মেলন প্রতি বছর আয়োজিত হয়। বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খোঁজাই এর মূল লক্ষ্য। সম্মেলনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে।
তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সম্মেলনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্মারকলিপি ও একটি পিটিশন পাঠিয়েছিল। পিটিশনটি যৌথভাবে দাখিল করেছিল সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স। সেই পিটিশনটিতে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী এবং ২ হাজার ৯৭৩টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। একই সময়ে ১৬৬টি সন্দেহভাজন এবং ৩০টি নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশের বয়স ছিল পাঁচ বছরের নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একই সঙ্গে বাংলাদেশে চলমান সংক্রমণ, বিপুলসংখ্যক টিকাবিহীন বা টিকা-ঘাটতিসম্পন্ন শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির কারণে জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকিকে ‘উচ্চ’ বলে মূল্যায়ন করেছিল।