দখিনের সময় ডেস্ক:
দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সময়ে আটক হওয়া একাধিক ছাত্রছাত্রী ও বিক্ষোভকারী পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর, দুর্ব্যবহার এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন বিক্ষোভকারী তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখিয়েছেন। এমনকি যৌনাঙ্গেও আঘাত করার ঘটনা ঘটিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
১১ই অক্টোবর কনট প্লেসে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক হওয়া সমাজকর্মী অর্জুনের অভিযোগ, পুলিশ তার বুকে ও গোপনাঙ্গে লাথি মেরেছে এবং একাধিকবার ঘুষি মেরেছে। তার পোশাক ছিঁড়ে যায়। তিনি বলে, প্রিজন ভ্যানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমার মুখে একজন ঘুষি মারে। আমি মাটিতে পড়ে যাই আর আমি দেখলাম ওই ভ্যানে চার-পাঁচটা খুপরি ছিল। ভ্যানে তিনজন পুলিশ এবং একজন কমান্ডো ছিল। একজন আমাকে মারধর করল তারপর অন্যজনের কাছে আমাকে ঠেলে দিল। সে আমার যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মারে। তারপর তৃতীয় জনের কাছে আমাকে ঠেলে দেওয়া হয়। সে আমার বুকে লাথি মারে। তারপর চতুর্থজন আমার গলা টিপে ধরে। তারপর আমাকে ওই প্রিজন ভ্যানের খুপরিগুলোর মধ্যে একটাতে পাঠানো হয়। আমি বাধা দিইনি কারণ আমি জানতাম এর পরিণতি কী হবে।
অর্জুন আরও অভিযোগ করেন, বাসে কয়েকজন নাবালকও ছিল, যাদের মধ্যে কয়েকজনের চোট লাগে। এমনকি কারো কারো হাড়ও ভেঙে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আনুমানিক সকাল ১১টা নাগাদ তাকে আটক করে নাঙ্গলোইয়ের একটা আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মুক্তি দেওয়া হয় গভীর রাতে। সেখানে খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধারও অভাব ছিল বলে শরণ্যা শর্মার অভিযোগ।
দোসরা অক্টোবর থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ১০ই অক্টোবর তা আরও তীব্র আকার নেয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। দিল্লি পুলিশ ১০ই অক্টোবর যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পাশাপাশি, দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ গত শুক্রবার বলেছিলেন যে জন-নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে যারা আইন লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।