দখিনের সময় ডেস্ক:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই বার্তার মাধ্যমে নিজের সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোরে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
ভাষণে তারেক রহমান বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে ‘থ্রি-আর’—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—কৌশল অনুসরণ করছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথা জানান তিনি। নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নেও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্বশান্তি, প্রযুক্তির ন্যায্য সুযোগ, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল সবার জন্য নিশ্চিত করতে কার্যকর আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে তরুণরা সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং প্রতিটি শিশু নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। ভাষণের শেষে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ।’