দখিনের সময় ডেস্ক:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় যুবদলের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ তথ্য ছড়িলে পড়লে তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সাদ্দাম হোসেনের বলেন, ‘আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দরগ্রাম বাজারে সারের ব্যবসা করে আসছে। আমার বাবাও দরগ্রাম বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে বিএনপির রাজনীতি করার অপরাধে সারের ডিলার থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এরপর থেকে অন্য ডিলারের কাছ থেকে লাইন্সেস ভাড়া দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে।’
সম্প্রতি সাটুরিয়ার নয়টি ইউনিয়নে একজন করে সারের ডিলার নিয়োগের ঘোষণায় সাদ্দাম হোসেন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। কিন্ত শেষ পর্যন্ত দরগ্রাম ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মো. রহুল আমীনকে। সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ডিলারের নাম প্রকাশ করার পর হতাশ হয়ে দলীয় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ রাজনৈতিক ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তার পরিবার নির্যাতন ও একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময় ৯টি মামলা ছিল। এমনকি বাবা-ছেলে এক হাতকড়ায় একসঙ্গে জেল খেটেছেন। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পর প্রত্যাশিত সুযোগ না পেয়ে হতাশা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে ডিলার নিয়োগের বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারের জন্য আবেদন করেন। উপজেলা কমিটি যাচাই বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠান। নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসুম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন প্রার্থীর নাম উপজেলা সার ও বীজ কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা কমিটি সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয় নতুন সার ডিলারদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। এছাড়া সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে বিএনপির ৯ নেতাকর্মী ডিলারশিপ পেয়েছেন। তার মধ্যে চারজন নারী। এ নিয়ে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
সাদ্দাম হোসেনের পোস্টের পর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির যুবদলের সকল পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপত্রে বলা হয়েছে, দলীয় শৃংঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।