দখিনের সময় ডেস্ক:
৩৫ বছর বয়সের পর নতুন করে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইন পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের এ উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ৩৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। আইন পেশাকে একটি নির্দিষ্ট মানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী নবীন আইনজীবী ও আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি আইনজীবীদের শুধু আইনের জ্ঞান অর্জনেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক মূল্যবোধ ও পেশাগত নৈতিকতার চর্চা করার পরামর্শ দেন।
আইন পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনজীবীদের নিজেদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রী জানান, সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট) এবং সাইবার আইনসহ বিভিন্ন আইনের সংশোধন নিয়ে কাজ করছে। এসব আইন প্রণয়ন ও পর্যালোচনার কাজে তরুণ আইন শিক্ষার্থীরাও ভূমিকা রাখতে পারেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো আইন বিষয়ে স্নাতকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
তবে ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কী ধরনের আইনগত বা নীতিগত পরিবর্তন আনা হবে এবং তা কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।