1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জবিতে প্রতিবাদী গরুভোজ, গভীরে কোন খেলা?

dokhinersomoy
October 18, 2026 11:47 am
Link Copied!

দখিনের সময় ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার গরুভোজ ও কাওয়ালি সন্ধ্যা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ আয়োজন করে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সময় পর পর দুই দিন গরুভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা। আগের দিন শুক্রবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) গরুভোজের আয়োজন করে। জকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবির সংখ্যাগরিষ্ঠ। এ কারণে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকের দাবি, এই আয়োজনের নেপথ্যে ছিল শিবির। এদিকে কারোকারো মতে এর পিছনে বড় খেলা থাকতে পারে!
‘সম্প্রীতি ভোজ ও কাওয়ালি সন্ধ্যা ২০২৬’ কর্মসূচি পালিত হয়। আয়োজকেরা জানান, বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে খাবার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যার পর চত্বরে কাওয়ালির আসর বসে। শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও গণিত ভবনের মাঝের সড়কে গরু জবাই করেন আয়োজকেরা। পরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে খাবার বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে খাসির মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সম্প্রীতি বজায় রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিতে অংশ নিতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক আজম খান বলেন, ‘আমরা প্রথমে অনুমতি দিতে চাইনি। তবে সংগঠনটির নেতা মামুনুর রশিদ উপাচার্যকে ফোন করে অনুরোধ করেছেন। পরে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
যেভাবে ঘটনার
সূত্রপাত
গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার বিভাগের শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় রান্নার অস্থায়ী চুলা তৈরিতে ইট ব্যবহার নিয়ে কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী আপত্তি জানান। পরে আয়োজকেরা স্থান পরিবর্তন করে রান্নার ব্যবস্থা করেন। এর পরদিন ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রক্টর দপ্তর। এ নিয়ে একদল শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিবাদ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, উত্তেজনা এড়াতে সাময়িকভাবে পশু জবাইয়ের আয়োজন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সব ধরনের আয়োজন নিষিদ্ধ করা প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল না।
এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে পরপর দুই দিন গরুভোজের আয়োজন করা হলো। সনাতন ধর্মাবলম্বী দুজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শারদীয় দুর্গাপূজার সময়ে এ ধরনের আয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে কিনা, সে বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা।