1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইয়াবার প্রথম চালান ধরার অপরাধে চাকরী হারান ডিজি

dokhinersomoy
October 27, 2026 2:59 pm
Link Copied!

বাংলাদেশে ইয়াবার প্রথম চালান আটক করা হয় ২০০২ সালে। তখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলেন মোহাম্মদ সালাম। আর ইয়াবার প্রথম চালান আটক করার অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন পরিচালক (অপরারেশন) মজিবুর রহমান হাওলাদার। এই ইয়াবার চালান ধরার ‘অপরাধে’ মহাপরিচালকের পদ থেকে মোহাম্মদ সালামকে অপসারণ করা হয়েছিল, এক ফ্যাক্স বার্তায় বাতিল করা হয় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। আর মজিবুর রহমান হাওলাদারকে বদলি করা হয় সেই সময়ে নখদন্তহীন দুদকে।

বলা হয়, সেই ঘটনায় একটা স্পষ্ট মেসেজ পায় মাদক কারবারিরা, বিশেষ গতি আসে মাদক ব্যবসায়। সেই গতি যে দেশকে কোন দুর্গতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, তার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত একটি গবেষণায়। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এ গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ গবেষণা সম্পন্ন হয়। গবেষণায় দেশের ৮টি বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটকে মাদক হিসেবে বিবেচনায় না নিয়েও দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবৈধ মাদকে আসক্ত। মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ব্যবহারকারীর বড় অংশ খুব অল্প বয়সে মাদকের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সেই প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। আর ৫৯ শতাংশের শুরু ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে।

পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। সঙ্গে প্রয়োজন ইশরাক হোসেনের মতো কিছু মানুষ। যাদের আপাতদৃষ্টিতে স্বল্পবোধ সম্পন্ন মনে হতে পারে। এত কিছুর পরও, কোনোই সন্দেহ নেই, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সিনেমা স্টাইলে অস্ত্র প্রদর্শন করে অ্যাকশনে নেমে মোটেই ভালো কাজ করেননি, সাধারণ বিবেচনায় খারাপ কাজ করেছেন ইশরাক। কিন্তু তাই বলে বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো তার মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়া নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে। আর যে কাজ প্রতিমন্ত্রীর করার কথা নয়, সেই কাজ করার জন্য তো পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ছিল এবং আছে; তারা কী করেছে? সহজেই বোধগম্য, বখরা নেওয়া ছাড়া আর কিছুই করেননি। কিন্তু তাদের কাউকে তো সরানো হয়নি। কেবল সরানো নয়, তাদের তো জেলে নেওয়া উচিত। কিন্তু এ উচিত কাজটিই তো এখনো হয়নি। আর হবে কি না, তাও বলা কঠিন।

লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, ২২ অক্টোবর ২০২। শিরোনাম, ‘মাদক কারবারিদের আগ্রাসনে সর্বনাশের পদধ্বনি’