মিজানুর রহমান জাকির চৌধুরী:
বিশ্বাস—একটি ছোট শব্দ, কিন্তু এর মূল্য অপরিসীম। আস্থা—একটি অদৃশ্য বন্ধন, যা পরিবারকে পরিবারে, মানুষকে মানুষের সঙ্গে এবং জনগণকে রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করে। মহান আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখা প্রত্যেক মুসলমানের পবিত্র আমানত। আর মানুষ যখন মানুষের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখে, তখন সেই আস্থাও হয়ে ওঠে একটি বড় দায়িত্ব।
একজন বাবা-মা সন্তানের ওপর বিশ্বাস রাখেন—সে একদিন আদর্শ মানুষ হবে, পরিবারের সম্মান ও সুনাম বৃদ্ধি করবে। কিন্তু সেই বিশ্বাস যখন প্রতারণা, অন্যায়, স্বার্থপরতা কিংবা দায়িত্বহীনতায় ভেঙে যায়, তখন শুধু একজন মানুষ নয়—একটি পরিবারও প্রশ্নবিদ্ধ ও কলঙ্কিত হয়। আজ সমাজের দিকে তাকালেও একই চিত্র। যেখানে থাকার কথা ছিল ভালোবাসা, সেখানে বিভেদ; যেখানে থাকার কথা ছিল সহযোগিতা, সেখানে স্বার্থপরতা; যেখানে থাকার কথা ছিল ন্যায়, সেখানে প্রতিহিংসা ও সংঘাত। রাষ্ট্রও এর বাইরে নয়। জনগণ রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর আস্থা রাখে, কারণ তারা বিশ্বাস করে—তাদের দায়িত্ব জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু সেই আস্থার অপব্যবহার হলে প্রশ্ন জাগে— “রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তাহলে রক্ষা করবে কে?”
দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট, দায়িত্বে অবহেলা ও স্বার্থসিদ্ধির প্রবণতা শুধু রাষ্ট্রের ক্ষতি করে না; এগুলো মানুষের বিশ্বাসের ভিতকেও দুর্বল করে দেয়। তাই পরিবর্তন চাইলে অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেকে প্রশ্ন করি— আমি কি আমার ওপর অর্পিত বিশ্বাসের মর্যাদা রাখছি? আমি কি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছি? আমি কি কারও আস্থার সঙ্গে প্রতারণা করছি না তো? আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে সততা, ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার চর্চা করি। পরিবারকে কলঙ্কমুক্ত রাখি, সমাজে আস্থা ফিরিয়ে আনি এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে সম্মান করি।
কারণ—
সম্পদ হারালে অনেক কিছু ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু একবার বিশ্বাস হারালে তা ফিরে পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিশ্বাস ও আস্থা এই আমানতের মর্যাদা রক্ষা করার এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।