1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অদ্ভুত প্রতারণার শিকার তারকারা

dokhinersomoy
October 28, 2026 1:07 pm
Link Copied!

দখিনের সময় ডেস্ক:
বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ফোন করেছিলেন এক প্রতারক। বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা মালভাদেকে বলা হয়েছিল, বিদ্যুতের বিল পরিশোধের সমস্যা সমাধানে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। কিন্তু প্রতারকের ফাঁদে পা না দিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, ব্যাংকের টাকা খোয়ানোর চেয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে থাকাই তার কাছে ভালো। এরপর ফোনালাপের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।
তবে প্রতারণার অদ্ভুত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে ভক্তদের সতর্ক করার ঘটনা বিদ্যার ক্ষেত্রেই প্রথম নয়। এর আগে আরও কয়েকজন তারকা নানা ধরনের প্রতারণা ও হয়রানির মুখে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের ঘটনা নিচে তুলে ধরা হলো।
১. বিদ্যা মালভাদে: বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি
‘চাক দে! ইন্ডিয়া’ সিনেমার অভিনেত্রী বিদ্যা মালভাদেকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, বিদ্যুতের বিল পরিশোধ না করায় তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। অথচ বিদ্যা আগেই বিল পরিশোধ করেছিলেন। সমস্যা সমাধানের কথা বলে তাকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতেও বলা হয়।
এ ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারকেরা অনেক সময় ভুক্তভোগীর ফোনে প্রবেশাধিকার পেয়ে ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বিদ্যা ফোনে প্রতারকের কথায় সাড়া দেননি। বরং মোমবাতি জ্বালিয়ে থাকার কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে অন্যদেরও সতর্ক করেন তিনি।
২. সোনি রাজদান: পার্সেলে মাদক থাকার অভিযোগ
অভিনেত্রী সোনি রাজদানও প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। তার অভিযোগ, দিল্লি কাস্টমসের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, তিনি অবৈধ মাদকের একটি পার্সেল অর্ডার করেছেন। এরপর তার আধার নম্বর ও টাকা চাওয়া হয়। তবে তিনি প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করেননি। ইনস্টাগ্রামে ঘটনাটি জানিয়ে মুম্বাই পুলিশকে ট্যাগ করেন সোনি।
এ ধরনের প্রতারণায় সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফোনে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে পরিচিত প্রতারণার ধরনগুলোর সঙ্গেও এ ধরনের কৌশলের মিল রয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে সোনি বোঝাতে চেয়েছেন, এ ধরনের ফোন পেলে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন। তাই ভয় পেয়ে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ দেওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
৩. সোনু সুদ: নকল ভিডিও কলে প্রতারণা
অভিনেতা সোনু সুদের নাম ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়েও প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। এক অনুসারীর কাছ থেকে পাওয়া একটি ডিপফেক ভিডিও কল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ভিডিওতে সোনু সুদের মতো দেখতে এক ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন এমন একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি আসল সোনু সুদ নন।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় অসংখ্য অসহায় মানুষকে সহায়তা করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনেতা। প্রতারকরা তার সেই মানবিক ভাবমূর্তিকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় মানুষকে সতর্ক করে সোনু জানান, পরিচিত কোনো তারকা বা ব্যক্তির ভিডিও কল দেখেই সেটিকে আসল বলে বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রযুক্তির সাহায্যে এখন পরিচিত মানুষের চেহারা ও কণ্ঠস্বর নকল করেও প্রতারণা করা সম্ভব।
৪. প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়: খাবারের অর্ডার গায়েব
খাবার সরবরাহকারী অ্যাপের সেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেও আলোচনায় এসেছিলেন টালিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, সুইগিতে খাবারের অর্ডার দেওয়ার পর সেটির স্ট্যাটাসে ‘ডেলিভারড’ দেখানো হলেও খাবার তার কাছে পৌঁছায়নি।
ঘটনাটি ঘটে ৩ নভেম্বর। এর তিন দিন পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যাগ করেন অভিনেতা। ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে বলেন, এটি শুধু জাতীয় সমস্যা নয়, আন্তর্জাতিক সমস্যা; তাই জাতিসংঘকে যুক্ত করা উচিত। প্রসেনজিতের বক্তব্য ছিল, পোশাক দেরিতে পৌঁছালে তা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে এমন বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়।
যদিও ঘটনাটি সরাসরি অপরাধমূলক প্রতারণা ছিল না, অর্ডার পৌঁছানোর আগেই সেটিকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে দেখানোয় তার মধ্যে প্রতারণার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল।
৫. রাহুল বোস:
দুই কলার দাম ৪৪২ টাকা!চটি ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থানকালে অভিনেতা রাহুল বোস দুটি কলার জন্য ৪৪২ টাকা ৫০ পয়সা বিল পান।
পাঁহোটেলের বিলে কলা দুটিকে ‘ফ্রুট প্ল্যাটার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করে রাহুল রসিকতা করে লেখেন, ‘কে বলেছে ফল আপনার অস্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর নয়?’ সঙ্গে ব্যবহার করেন #মড়রহমনধহধহধং এবং #ঢ়ড়ঃধংংরঁসভড়ৎশরহমং হ্যাশট্যাগ।
তার সেই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর চণ্ডীগড়ের আবগারি ও কর বিভাগ হোটেলটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। কারণ, তাজা ফল জিএসটি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত হলেও হোটেলটি কলার ওপর কর ধার্য করেছিল।
এরপরও এ নিয়ে আলোচনা থামেনি। আরেক ব্যবহারকারী একটি বিল প্রকাশ করে জানান, বিলাসবহুল হোটেলে দুটি সেদ্ধ ডিমের জন্য তাকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দিতে হয়েছে। রাহুল বোসকে ট্যাগ করে তিনি রসিকতা করে জানতে চান, এবারও কি প্রতিবাদ করার সময় এসেছে?