দখিনের সময় ডেস্ক:
ঢাকার নবাব পরিবারের বাসভবন আহসান মঞ্জিলের ৯ নম্বর গ্যালারিতে রাখা আছে নবাববাড়ির পাঁচটি লোহার সিন্দুক। একসময় সিন্দুকগুলো নবাব পরিবারের কেন্দ্রীয় ভল্ট বা ব্যক্তিগত কোষাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পাঁচটির মধ্যে তিনটি সিন্দুক এখনো খোলা হয়নি। ফলে সেগুলোর মধ্যে কী আছে, তা নিয়ে রয়েছে কৌতূহল।
সিন্দুকগুলো নিয়ে নানা গল্পও প্রচলিত আছে পুরান ঢাকায়। এদকি তালাবদ্ধ সিন্দুকগুলো দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করে। কিন্তু এগুলো কখনো খোলা হয়নি। শত বছরের বেশি আগের সিন্দুকগুলোতে এখনো মরিচা পড়েনি। ‘সিন্দুকের ভেতরে সোনা, হীরা কিংবা মূল্যবান সম্পদ থাকতে পার ’- এমন আলোচনা ছড়িয়ে আছে।
আহসান মঞ্জিলের পাঁচটি সিন্দুক কবে আহসান মঞ্জিলে আনা হয়, তা জানা যায়নি। তবে জাদুঘরের কর্মকর্তাদের ধারণা, ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার নবাব পরিবারে ধনসম্পদের প্রাচুর্য ছিল। ওই সময়ে টাকা ও মূল্যবান অলংকার সংরক্ষণের জন্য সিন্দুকগুলো লন্ডন থেকে আনা হয়েছিল। সিন্দুকে খোদাই করা তথ্য ও জাদুঘরের নিবন্ধন খাতা অনুযায়ী, সিন্দুকগুলোর প্রস্তুতকারক যুক্তরাজ্যের ‘চাব্স’। কলকাতার এজেন্ট ‘দ্য থমসন অ্যান্ড কোং’–এর মাধ্যমে সেগুলো আহসান মঞ্জিলে আনা হয়। সিন্দুকে খোদাই করা তথ্য ও জাদুঘরের নিবন্ধন খাতা অনুযায়ী, সিন্দুকগুলোর প্রস্তুতকারক যুক্তরাজ্যের ‘চাব্স’। কলকাতার এজেন্ট ‘দ্য থমসন অ্যান্ড কোং’–এর মাধ্যমে সেগুলো আহসান মঞ্জিলে আনা হয়। চাব্স ১৮৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানি। তারা সিন্দুকের মতো নিরাপত্তা সরঞ্জাম তৈরিতে সুপরিচিত।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, সিন্দুকগুলোর তালাব্যবস্থা বা লকিং সিস্টেম অত্যন্ত জটিল। সবচেয়ে বড় সিন্দুকটির উচ্চতা ২৫৪ সেন্টিমিটার। চওড়ায় তা ১৪৮ সেন্টিমিটার। এতে লকার আছে ৯৪টি। বাকি চারটি সিন্দুকের মধ্যে তিনটির আকার একই—উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার, চওড়ায় ৬৫ সেন্টিমিটার। বাকি সিন্দুকটি কিছুটা বড়—উচ্চতায় ১৮০ সেন্টিমিটার, চওড়ায় ৯৯ সেন্টিমিটার। বড় সিন্দুকটি একটি আলমারির সমান। বাকিগুলো তার চেয়ে ছোট। জুতা রাখার সেলফের সমান বলা যায়।
ঢাকার নবাব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা খাজা আলীমুল্লাহ ১৮৩০ সালে ফরাসিদের কাছ থেকে বুড়িগঙ্গার তীরের একটি কুঠিবাড়ি কিনে সংস্কার করে বাসভবনে পরিণত করেন। তাঁর ছেলে আবদুল গনি আধুনিক নকশায় সেখানে নতুন একটি ভবন করে নিজের ছেলে খাজা আহসানউল্লাহর নামে নাম রাখেন ‘আহসান মঞ্জিল’। ১৮৫৯ সালে আহসান মঞ্জিলের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ সালে শেষ হয়। জমিদারি উচ্ছেদ আইনের আওতায় ১৯৫২ সালে ঢাকা নওয়াব এস্টেট অধিগ্রহণ করা হলে নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ প্রাসাদটি ছেড়ে পরীবাগে চলে যান। ১৯৮৫ সালে সরকার অধিগ্রহণ করে আহসান মঞ্জিল সংস্কার করে। ১৯৯২ সাল থেকে এটি জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।