1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারীসহ ফ্ল্যাটে সাবেক ওসি, ধরিয়ে দিলেন ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’

dokhinersomoy
September 18, 2026 4:59 pm
Link Copied!

দখিনের সময় ডেস্ক।।

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তা। পরে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে পুলিশ ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফ্ল্যাট থেকে থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

পরে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। তবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির কমান্ড্যান্ট।

জানা যায়, মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারী অবস্থান করছিলেন।

শুক্রবার সকালে ওই ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে অবস্থান নেন আন্নি আক্তার নামে এক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। তার দাবি, ভেতরে তার স্বামী রয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ফ্ল্যাট থেকে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে বের করে আনা হয়। পরে দুজনকেই থানায় নেওয়া হয়।

সানজিদা মৌ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে মাহবুব আলম দাবি করেন, সানজিদা তার স্ত্রী। যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি আক্তারকে নিয়ে মাহবুব আলম দাবি করেন, চার দিন আগে তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন।

নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার নিজেকে একজন নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।

আন্নি বলেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সঙ্গে দুই দিন পেয়েছিলেন তিনি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব আলম তার কথিত পালিত মেয়ের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে গেছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দীর্ঘ সময় দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পক্ষ থেকে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।