1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

dokhinersomoy
November 7, 2026 5:36 pm
Link Copied!

দখিনের সময় রিপোর্ট:

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মামুন অর রশিদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল শাসন, শোষণ, বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। এ আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ঘোষণা এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

উপাচার্য আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি, যার ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। ইতিহাসের এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উদ্যোগ ও সমর্থন ব্যক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে বরিশাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন প্রণীত হয়। এরপর ২০০৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয়। বিভিন্ন পরিবর্তন ও প্রক্রিয়া অতিক্রম করে ২০১০ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণীত হয়। ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু এবং ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।

তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোঃ মেহেদী হাসান সোহাগ। তিনি ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সাদেকুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফ উল ইসলাম এবং উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মোঃ হাসানুজ্জামান ও মোঃ জাকির হোসেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত এবং সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আশিক।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. গাজী মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।