1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আটকাপড়া হাতিগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

dokhinersomoy
November 1, 2026 3:57 pm
Link Copied!

দখিনের সময় ডেস্ক:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিচরণকারী হাতিগুলোকে বলা হয় ক্রস বাউন্ডারি এলিফ্যান্ট। শেরপুর–জামালপুরের হাতি নিয়ে আইইউসিএন এর গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়া ছিল বহু আগে থেকে। এসব গেট ও নদীর ছড়া দিয়ে এই হাতিগুলো চলাচল করতো দুই দেশের মধ্যে।
নালিতাবাড়ি বনবিভাগের মধুটিলা রেঞ্জের কর্মকর্তা আব্দুল করিম। দীর্ঘ বছর এই এলাকায় হাতিদের আচরণ গতিবিধি নিয়ে কাজ করছেন। মি. করিম জানান, সম্প্রতি বছরগুলোতে তারা দেখতে পেয়েছে, যে সব রাস্তা দিয়ে হাতিগুলো চলাচল করতো সেগুলো কাঁটাতার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও গেট নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে হাতিগুলো সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে আটকা পড়েছে। সেগুলো আর ভারতে ফিরতে পারছে না। তিনি বলছিলেন, “একদিকে যেমন কাঁটাতারের বেড়া দিছে, আবার ভারতের যে জায়গোগুলোতে গিয়ে হাতি বিচরণ করতো তার অনেক জায়গায় তারা কাজুবাদামের চাষ করছে। যে কারণে হাতি আর ওখানে যেতেও পারে না। খাবার পায় না। ফলে এই হাতিগুলো এখন বাংলাদেশেই থেকে যাচ্ছে”।
গবেষক সারোয়ার আলম দীপু বলছিলেন, “যখন ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে তখন হাতি ওদিক আর যেতে পারছে না। কখনো কখনো নদীর ‘প্যাঁচ’ (নদী পথের গেট) দিয়ে যদিও বা কিছু হাতি যাচ্ছে তখন সেখানে গিয়ে তারা খাবার পাচ্ছে না”। গবেষকরা বলছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কারণে হাতির স্বাভাবিক বিচরণপথ বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ অংশে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।
শেরপুর ময়মনসিংহ অঞ্চলে হাতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে একটা বড় সংকট তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে সেটি নিয়ে উদ্বেগের কথা এরই মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে জানানো হয়েছে। বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা একটা কথা ভারতকে বলেছি, সুন্দরবনের বাঘ তো দুই দেশেই যাতায়ত করছে। হাতির ক্ষেত্রেও আপনাদের এটা ওপেন করতে হবে; নাহলে এটি নিয়ে সংকট থেকে যাবে। আমরা আশা করছি তারা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে”।
এ নিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বনবিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে। তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক মেইল করা হলেও এখনো পর্যন্ত তারা এর জবাব দেয় নি। গবেষকরা বলছেন, হাতির অবাধ চলাচল ও বিচরণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধান না হলে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি কয়েক বছরের মধ্যে আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।