দখিনের সময় ডেক্স:
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা সেই সুন্দরীকে গ্রেপতার করনা হয়েছে। তার নাম দিশা (১৯)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দিশা নামের এক তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনার রাতের একটি সিসিটিভি ফুটেজে উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করতে দেখা যায় তাহসিফ, দীপ ও দিশা নামের ওই তরুণীকে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ, দীপ এবং ওই তরুণী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে পৌঁছান দীপ। পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
রেস্টুরেন্টের আরেকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে রেস্টুরেন্ট থেকে তাদের বের হতে দেখা যায়। পরে মোটরসাইকেলে চেপে সেখান থেকে চলে যান তারা। রেস্টুরেন্ট থেকে তারা তিনজন কোথায় গেলেন সেই তথ্য হন্যে হয়ে খুঁজছে তদন্তকারী দল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী বন্ধু স্থানীয় ছোট ভাই দীপকে প্রথমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া ও সেসব স্থানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তথ্য দেন দীপ। তবে তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে দাবি সূত্রের। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে পিবিআই।
নৌ পুলিশের সূত্র জানায়, রিমান্ডে দীপের আগের বক্তব্য, পরিবারের করা মামলার অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে পাওয়া আলামত মিলিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল এবং এতে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।