আলম রায়হান:
মাদকবিরোধী অভিযানে সাধারণ দৃষ্টিতে সীমালঙ্ঘনের কারণে ইশরাককে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে বলে ১৮ অক্টোবর রাতেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিষয়টি তিনি প্রথমে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। এবং ১৯ অক্টোবর দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেছেন। পদত্যাগের জন্য আহূত সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। পুরো সময়টা ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।’ ইশরাক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার জন্য যেন কাউকে বিব্রত হতে না হয়।’
মনে রাখা প্রয়োজন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ইশরাক হোসেনের অগ্রহণযোগ্য অ্যাকশনের সময় মাদকের যে খণ্ডচিত্র ফুটে উঠেছে, তা হচ্ছে দেশেরই প্রতিচ্ছবি, যা দেশ-জাতির জন্য ভয়ংকর। এ অবস্থায় শেষ কথা হচ্ছে, ইশরাক হোসেন যেন তার কথা রাখেন। তিনি বলেছেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপিকর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে।’ আর আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে যেন অসংখ্য ইশরাক হোসেন তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন ইশরাকদের সঙ্গে থাকেন। যে কেউ বুঝবেন, প্রধানমন্ত্রী পাশে না থাকলে দেশকে মাদকের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন, আমরা যেমন দেশের পানির সর্বনাশ করে ফেলেছি, তেমনই মাদক আমাদের সর্বনাশ করে ফেলছে, ফেলেছে!
লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক
দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, ২২ অক্টোবর ২০২।
শিরোনাম, ‘মাদক কারবারিদের আগ্রাসনে সর্বনাশের পদধ্বনি