1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে যুবদল কর্মী খুনের ঘটনায় তিন আসামীর বাড়িতে আগুন

dokhinersomoy
October 25, 2026 4:56 pm
Link Copied!

দখিনের সময় রিপোর্ট:
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় যুবদলকর্মী কাওছার হাওলাদারকে (৩৭) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই জনসহ মোট তিন আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। গত রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাওছার হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অজ্ঞাত দুই-তিন ব্যক্তি গ্রেপ্তার আসামি সজল মোল্লা (৩৮) ও শামীম মোল্লার (৩৬) বাড়িতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এছাড়া মামলার আরেক আসামি ইকবাল হোসেন (নান্নু) মোল্লার বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতলা সেতুর ওপর কাওছার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে সকালে হাতাহাতির ঘটনার পর পরিকল্পিতভাবে কাওছারকে হত্যা করা হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনিসহ মোট দুজন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাওছারকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় দরজার আড়ালে লুকিয়ে থেকে আহতাবস্থায় প্রাণে রক্ষা পায় রাশেদ আমিন হাওলাদার।
আহত রাশেদ আমিন হাওলাদার জানান, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাওছার ও আশিকুলের সঙ্গে নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার হাতাহাতি হয়। এর আগে আলমদী এলাকায় সজল হাওলাদারকে মারধর করেন নিহত কাওছারের লোকজন। এ ঘটনার জেরে সজলের ভাই সৌদি আরবপ্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না ফেসবুকে প্রতিশোধ ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ। ইকবাল ২১ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।
রাশেদের দাবি, ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার রাতে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে লোকজন সাতলায় আসে। রাত ১১টার দিকে সাতলা-কান্দি সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওছার ও রাশেদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে দুজন পাশের বিলে ঝাঁপ দেন। পরে সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল দরজা ভেঙে ঢুকে কাওছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাশেদ দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ থানার টোলপ্লাজা এলাকা থেকে মাইক্রোবাসযোগে পালানোর সময় নয় জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। রাতে কে বা কারা ৩ আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।