দখিনের সময় ডেক্স:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনুমোদনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি মন্তব্য করেন এই কমিটির শীর্ষ পদে ছাগলচোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন মো. রাশেদ খাঁন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘অনেক আশা জাগিয়ে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখানো এনসিপির কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি হয়েছে। যারা সারাদিন গণতন্ত্রের বুলি আউড়ায় ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা একটি কাউন্সিল পর্যন্ত করে কমিটি দিতে পারলো না, এর থেকে বড় লজ্জা আর কি হতে পারে? এর মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’ তিনি বলেন, ‘যতোটুকু তথ্য পেয়েছি, জামায়াতের অনুমোদনে এনসিপির এই নতুন কমিটি হয়েছে। অর্থাৎ জামায়াত যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে চায়নি, কমিটিতে তাদের অগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির মধ্যে যারা স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখে কিংবা জামায়াতবিরোধী, কমিটিতে তাদের পদাবনতি হয়েছে। আর ছাগলচোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে আসীন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবমিলিয়ে এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের যুব শাখা রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে বঞ্চিতদের এক ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২ বারের বেশি কেউ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হতে পারবে না! দেখা যাক, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের এই মেয়াদই শেষ মেয়াদই হয় কি না! না কি নতুন বন্দোবস্তের নামে নতুন ভণ্ডবস্তের পথেই এগুবে এনসিপি!’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ‘আজকে যদি এনসিপি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ধারণ করে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারতো, তাহলে আওয়ামী শূন্যতা পূরণের জন্য এনসিপিকে সবাই সাধুবাদ জানাতো। দুঃখের বিষয়, নতুন কমিটির ফরমেট দেখে মনে হলো, কিছু আসন ও আসন প্রতি নির্বাচনী খরচের বিনিময়ে এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়ে গেল! বাংলাদেশে এনসিপির আর কোনো স্বতন্ত্র রাজনীতি করার ন্যূনতম সুযোগ রইলো না। এনসিপিকে বর্তমানে প্রক্সি জামায়াত পার্টি বলেও আর ভুল হবে না।’
প্রসঙ্গত, এনসিপির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে৷ কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে পদোন্নতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে পদোন্নতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সদস্যসচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নতুন কমিটিতে যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা হয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব। এদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়।