1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেসবুকে ১৭ দিনের সম্পর্ক,রাজুর ডাকে কক্সবাজার গিয়েছিল স্কুলছাত্রী তাজমিন

dokhinersomoy
October 11, 2026 12:57 am
Link Copied!

দখিনের সময় ডেস্ক:

কুমিল্লায় হত্যার শিকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবকের ডাকে কক্সবাজার গিয়েছিল বলে জানা গেছে। রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। তাদের পরিচয়ের পর মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চার দিন নিখোঁজ থাকার পর তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, তাজমিন নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রথমে পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরে কুমিল্লা হয়ে কক্সবাজারে পৌঁছায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সে মাকে জানিয়েছিল, এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।

কক্সবাজারের কক্সেস প্যানারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ জানান, গত ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ৮টার পর তাজমিন তার এক ছেলে বন্ধুকে নিয়ে টিকিট কাটতে কাউন্টারে আসে। পরদিন বুধবারের জন্য ছেলেটি একটি টিকিট কাটে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

আবদুল্লাহ জানান, তাজমিনের হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং বাস কাউন্টারে আসা মেয়েটিকে তাজমিন হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তার সঙ্গে থাকা যুবকটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের কাছে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাস থেকে তাজমিন নামে। পুলিশ জানায়, পরে শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অটোরিকশার চালক সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয় লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেতে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে নিয়ে আসতে তার বান্ধবীর বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলে তাজমিন কিছু জানায়নি।

মেয়ের বন্ধুত্ব ও চলাফেরা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটনের আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি বলে জানান তিনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খোঁজ রাখার চেষ্টা করতেন। তবে এত সতর্কতার পরও মেয়েকে হারাতে হয়েছে তাঁকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাজমিনের মায়ের সন্দেহের তালিকায় থাকা এক বান্ধবীর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততা এখনো পাওয়া যায়নি। ওই বান্ধবী তাজমিনের চেয়ে বয়সে বড়। তাজমিনের মোবাইল গেমে আসক্তির বিষয়টিও তদন্তসংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান মনে করেন, রাজুর সঙ্গে তাজমিনের সম্পর্ক না হলে হয়তো তাকে কক্সবাজার যেতে হতো না এবং এমন বিপদের মুখেও পড়তে হতো না।

তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াই এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।