দখিনের সময় ডেস্ক:
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রথমে নেওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি। কিছুদিন পর ডেকে নিয়ে সই করানো হয় একটি কাগজে। তবে সেই কাগজে কী লেখা ছিল, তা জানেন না ৪৩ বছর বয়সী ওই বিধবা নারী। এ ঘটনা ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নে পাটুলী গ্রামে। ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানরা এই চরম সম্মানহানির বিচার চান। দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে এমন অসহায় পরিবারের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকার সচেতন মহল।
প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে পাঁচ ছেলেকে দিনমজুরি করে বড় করেছেন ৪৩ বছর বয়সী এই বিধবা নারী। এতিম পাঁচ ছেলে সন্তানকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বাঁচার সংগ্রাম করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু তার নিদারুণ দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় একটি চক্র। ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কৌশলে একটি সাদা কাগজে তার টিপসই নেন স্থানীয় কসমেটিকস ব্যবসায়ী ও জামায়াতের সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তার। পরে এই টিপসই জাল করে একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর ভুয়া কাবিননামা প্রকাশ করা হলে এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। নিজের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ায় ওই নারী এখন অনেকটাই আত্মগোপনে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমারে ছাত্তার বলছিল ফ্যামিলি কার্ড কইরা দিব, তাই এনআইডি কার্ড আর ছবি দিছিলাম। পরে তার দোকানে ডেকে নিয়া টিপসই নেয়। এখন শুনি কুদ্দুছের লগে আমার নাকি বিয়া অইয়া গেছে। আমি তো কোনো বিয়া বহি নাই, কাজিও দেহি নাই। আমার নাতি-নাতনি আছে, সমাজে মুখ দেখাব কেমনে। আমি এর বিচার চাই।
স্থানীয় এব ব্যক্তি বলেন, একজন অসহায় ও স্বামীহারা নারীকে ঘিরে এমন অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত এই প্রতারক চক্র ও সংশ্লিষ্ট জামায়াতনেতাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক। ভুক্তভোগী নারীর ছেলেরা বলেন, মায়ের সম্মান নিয়ে এভাবে খেলা করার হীন মানসিকতার মানুষদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর এই বিষয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।