বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুবিধা, সম্ভাবনা ও সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কলাপাড়ায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ে জনগণের জ্ঞান, প্রচলিত ভুল ধারণা, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে একটি নীতিপত্র উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশাল, প্রান্তজন, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (CLEAN) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BWGED)-এর যৌথ উদ্যোগে বুধবার বেলা ১১টায় বিডিএস হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশাল আহ্বায়ক অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন । অতিথি হিসেবে ছিলেন বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ০১ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জাহিদা খানম এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার ইঞ্জিনিয়ার অহেদ মুরাদ
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশাল এর সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট সুভাস দাস , পুস্পা চক্রবর্তী, অব: অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান খোকন , মো: আক্তারুল কবির, এটি এম খোরশেদ আলম, সহ প্রমুখ। এছাড়া স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভার সঞ্চালনা করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশাল এর সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী ।
সভার শুরুতে “ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা” বিষয়ক নীতিপত্র উপস্থাপন করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশাল এর সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী ।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে। এই নির্ভরতা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি করছে। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা দিয়ে প্রায় ৩২,৪০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব হতো।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় হ্রাস, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখতে পারে।
সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতার ঘাটতি, প্রচলিত ভুল ধারণা, প্রাথমিক বিনিয়োগের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গ্রিড সংযোগ, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় লোডশেডিং সংকট দূর করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে পৌরসভা ভবন, সরকারি স্থাপনা, বাজার, সড়কবাতি, পার্ক ও অন্যান্য জনসাধারণের স্থাপনায় রুফটপ ও অন্যান্য উপযোগী জায়গা যেমন রূপাতলী বাস স্ট্যান্ডের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে একটি সবুজ ও টেকসই সিটি কর্পরেশুন গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকরা মনে করেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।