1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও

বিদেশে যাচ্ছে ট্যানারি বর্জ্য, ধুঁকছে জিলেটিন শিল্প

dokhinersomoy
October 21, 2026 3:32 pm
Link Copied!

দখিনের সময় রিপোর্ট
সাভারের বিসিক ট্যানারি শিল্পনগরী থেকে কাঁচা চামড়ার বর্জ্য বা টুকরা (কাউ র হাইড ট্রিমিংস) বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে কাঁচামাল সংকটে  দেশীয় জিলেটিন কারখানা ধুঁকছে। সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শিল্প খাতের কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শিল্প খাতের কারখানা মালিকরা তাই কাঁচা চামড়ার বর্জ্য রপ্তানি নিষিদ্ধের আবেদন করেছেন সরকারের কাছে। কারখানার মালিকদের হয়ে এ আবেদন করেছে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ)। অ্যাসোসিয়েশন দেশের একমাত্র জিলেটিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেডের নাম উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেডের আবেদনও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্প খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, জিলেটিন তৈরির মূল কাঁচামাল কাঁচা চামড়ার বর্জ্য বা টুকরা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ কাঁচামাল সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরী থেকে সংগ্রহ করে নিজস্ব কারখানায় পরিবেশসম্মত উপায়ে রিসাইকেল করে। এরপর জিলেটিন তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করে। বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি ও ইয়ংলি বায়োটেকনোলজিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর বর্জ্য রিসাইকেল করে জিলেটিন ও শিল্প প্রোটিন পাউডার তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, দেশে এই কাজ তারাই প্রথম শুরু করেছে। এখন কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ধাক্কা লেগেছে রপ্তানিতেও।
জানা যায়, আশুলিয়ার মির্জানগরের তাকসুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড। চীনা বিনিয়োগে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম চামড়া ও ট্যানারি বর্জ্য রিসাইক্লিং কারখানা। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লু চেংফেং সম্প্রতি এ সংকটের বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ) গত ৮ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে কাঁচা চামড়ার টুকরা রপ্তানি নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবমতে, বছরে ৫ হাজার মেট্রিক টন জিলেটিন উৎপাদনে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা চামড়ার টুকরা দরকার। অথচ সারা দেশে বছরে এ কাঁচামাল উৎপাদিত হয় প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর পুরোটাই দেশীয় কারখানায় রিসাইকেলের জন্য প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ কাঁচামাল কিনে বিদেশে পাঠাচ্ছেন। তারা প্রতি কেজি চামড়ার টুকরা ১৩ থেকে ১৪ টাকা দরে রপ্তানি করছেন। অন্যদিকে ওই টুকরা রিসাইকেল করে উৎপাদিত জিলেটিন প্রতি কেজি প্রায় ৬১০ টাকায় (৫ মার্কিন ডলার) রপ্তানি করছে কারখানাটি। অর্থাৎ কাঁচামাল রপ্তানি হলে দেশ কম দাম পাচ্ছে। আর দেশে কাঁচা চামড়ার বর্জ্য বা টুকরা প্রক্রিয়াজাত হলে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।