দখিনের সময় ডেক্স:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহাতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ আদালতে এ মামলা করেন। পরে আদালতের আদেশে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করে।
মামলার বাদী মুকসুদপুর উপজেলার ঝুটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা। তিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। অভিযুক্ত এস এম মাহাতাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুবশি গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে মাহাতাব উদ্দিনের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন মাহাতাব উদ্দিন। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় বিয়ের আশ্বাসে তিনি ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন এবং পরের দিন তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় মাহাতাব উদ্দিন ওই নারীর বাবার বাড়িতে গিয়েও একাধিকবার শারীরিক মেলামেশা করেন। সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর ওই নারী বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চাইলে মাহাতাব উদ্দিন তাদের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করেন। পরে কোনো উপায় না পেয়ে আদালতে গিয়ে মামলা করেন ওই নারী। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহাতাব উদ্দিনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল করে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া হলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, আমি মাহাতাব নই। তিনি (মাহাতাব উদ্দিন) ফোন রেখে বাইরে গেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।