প্রশাসনের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠি-
“আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমি শরীরের রোগ যন্ত্রনা সহ্য করতে পারছি না। সুস্থ থাকার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। ইন্ডিয়ার ভেলোর পর্যন্ত ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু সুস্থ হতে পারিনি। অসুস্থতা আমাকে সামাজিক ভাবেও পিছিয়ে দিচ্ছে। শরীরের যন্ত্রার কারণে কোথাও যেতে পারতাম না। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ কোন প্রকার হয়রানি না করে আমার লাশ আমার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।” নোটের নিচে নিজের নাম এবং তারিখ লেখা রয়েছে।”
বরিশাল প্রেসক্লাব সম্পাদককে লেখা চিঠি-
“জাকির, বিদায়,। তোমার সাথে আমার অনেক স্মৃতি। আমার মরদেহ প্রশাসনিক হয়রানি ছাড়া পরিবারের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করিও। আমি যেহেতু স্বেচ্ছায় আত্মহনন করলাম তাই ময়নাতদন্ত করার প্রয়োজন নাই। পারলে তোমার বউদি ও প্রকৃতিকে মাঝে মাঝে খোঁজ নিয়ো।”
স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে লেখা চিঠি-
“প্রিয়াঙ্কা/প্রকৃতি, আমাকে ক্ষমা করে দিও। পৃথিবীতে কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। প্রকৃতি তুমি পড়াশুনা এবং গান শেখা চালীয় যেও। প্রিয়াঙ্কা আমার অনুপস্থিতি তোমার জীবনে পুরণ হবার নয়। তার পরও কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। তোমার দিপক (চান) ভাইর সাথে থেক। দিপক তোমাদের আগলে রাখবে।”
ছোট ভাই ও বোনকে লেখা চিঠি –
“দিপক (চান)/ইতি, বিদায়,। প্রিয়াঙ্কা ও প্রকৃতিকে আগলে রাখিস। তোর ওপর অনেক বড় বোঝা চাপিয়ে গেলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিস। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও আমার ব্যাংক হিসাবের ব্যাপারে দেবাশীষের সঙ্গে আলাপ করে পদক্ষেপ নিস। প্রিয়াঙ্কা ও প্রকৃতিকে তোর কাছে রাখিস।”
সমকাল ব্যুরো প্রধানকে লেখা চিঠি-
“সুমন, বিদায়। তোমাকে বিবৃতকর অবস্থায় ফেলার জন্য দুঃখিত। এক সঙ্গে প্রায় দেড় যুগ কাজ করেছি। কখনো কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিও। যদি পার সমকালে আমার পাওনা টাকা আদায় করে তোমার বউদির হাতে দিও।”