1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাসির আড়ালে বিষন্নতা, গতানুগতিক ধারণার থেকে লক্ষণ ভিন্ন

dokhinersomoy
October 12, 2026 2:50 pm
Link Copied!

দখিনের সময় ডেস্ক:
বিষণ্ণতায় ভোগা কোনো মানুষের কথা ভাবলে আপনি হয়ত এমন কোনো মানুষের কথা ভাবেন, যিনি খুব কাঁদেন, বন্ধুদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন, অথবা দিন পার করার মতো শক্তিও তাদের মনে থাকে না। আপনি নিশ্চয়ই এমন কারো কথা ভাবেন না, যিনি রাতের খাবারের টেবিলে রসিকতা করছেন, ব্যস্ত সামাজিক জীবন সামলাচ্ছেন এবং কর্মক্ষেত্রে সফল। কিন্তু তিনিই হয়তো বিসন্নতায় আক্রান্ত। ‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ বা ‘হাসির বিষণ্ণতা’য় আক্রান্ত ব্যক্তি আছেন অনেক। ‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো রোগ নয়। কিন্তু গত পাঁচ বছরে এটি ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে বড় সংকটের তৈরি করতে যাচ্ছে বিষণ্ণতাছবির উৎস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহ্যিক রূপ বজায় রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক বার্নি ডান বলেন, “বিষণ্ণতা আমাদের বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং নিঃসঙ্গ বোধ করায়, আর মন খারাপের অন্যতম সেরা প্রতিষেধক হলো প্রায়শই অন্যদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা।” এর মানে এও হতে পারে যে, মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পায় না।
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্য গবেষক ডক্টর অলিভিয়া রেমিস বলেন, “এর অর্থ হলো বাইরে থেকে খুশি দেখালেও, ভেতরে ভেতরে আপনি বিষণ্ণ ও হতাশ বোধ করছেন।” আমরা সবাই মাঝে মাঝে মনমরা বোধ করি। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বজুড়ে ৩২ কোটির বেশি মানুষের ক্ষেত্রে এ অনুভূতিগুলো বিষণ্ণতায় পরিণত হয়। এটি এমন একটি অবস্থা যখন দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতা অথবা কোনো বিষয়ে আগ্রহ ও আনন্দ হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণগুলো সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে থাকে এবং তা কাজ, সম্পর্ক, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। কিন্তু বিষণ্ণতার লক্ষণ সবসময় আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় না।
গবেষণায় দেখা গেছে যে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এর একটি ‘অস্বাভাবিক’ রূপ অনুভব করেন, যেখানে লক্ষণগুলো গতানুগতিক ধারণার থেকে ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ স্বাভাবিকের চেয়ে কম ঘুমানোর বা খাওয়ার পরিবর্তে বেশি ঘুমাতে বা খেতে পারে, আবার ভালো বা উত্তেজনাপূর্ণ কিছু ঘটলে তার মেজাজ সাময়িকভাবে ভালো হয়ে যেতে পারে। এবং এমন প্রমাণ রয়েছে যে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের ভেতরের অবস্থা আড়াল করার জন্য কৌশলের ব্যবহার করতে পারেন, যা ‘মাস্কিং’ নামেও পরিচিত। এর মানে হলো – যখন কোনো মানুষ অন্যদের সাথে মিশে যাওয়ার জন্য তার কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা আবেগ লুকানোর চেষ্টা করে।
‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’-এ আক্রান্ত কিছু মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তারা বিষণ্ণ, তাই তারা যে এই বিষয়টি গোপন করছেন, তাও জানেন না বা বুঝতে পারেন না। তারা হয়তো মনে করেন যে তাদের উপসর্গগুলো কেবল ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ জীবনযাপনেরই একটি অংশ। অন্যরা হয়তো বুঝতে পারে যে তারা সমস্যায় আছে, কিন্তু অন্য কেউ যাতে তা খেয়াল না করে, সে জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে — যা বিশেষ করে পারফেকশনিস্ট এবং অতি কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তাদের নিজেদের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে এবং তারা হয়তো নিজেদের কাছে বা অন্য কারো কাছে স্বীকার করতে চায় না যে তারা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে,” তিনি বলেন। কিছু মানুষ সামাজিক কলঙ্ক এবং অন্যদের উপর বোঝা চাপানোর ভয় পান।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, অন্যরা হয়তো সমালোচিত হওয়ার বা কর্মক্ষেত্রে কিংবা সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। সাংস্কৃতিক বা পারিবারিক প্রত্যাশার কারণেও মন খুলে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো যদি আমলে না নেওয়া হয়, তবে তা বাড়তে বাড়তে দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর কিছুতে পরিণত হতে পারে এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
খবরসূত্র: বিবিসি বাংলা