• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কৃষি থেকে আয় বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

দখিনের সময়
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২০, ২১:২৬ অপরাহ্ণ
কৃষি থেকে আয় বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন...

বিশেষ প্রতিনিধি:

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি উদ্বৃত করে তিনি বলেন, কৃষিতে বিজ্ঞানী আসতে হবে। কৃষি থেকে আয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার কৃষিতে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। তিনি বলেন, ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে অনেক পরিবর্তন এনেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ আক্টোবর) অবসরে যাওয়া কৃষি সচিব মো: নাসিরুজ্জামানের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। বিদায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী সচিব মো: নাসিরুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল, যুগ্ম-সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, ড. শেখ বখতিয়ার, ড. মো: আ: মজিদ, ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, ড. শাহজাহান কবির, মো: আল মামুন প্রমুখ।

ড. আবদুর রাজ্জাক

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি সচিব হিসেবে মো: নাসিরুজ্জামান অনেক মৌলিক অবদান রেখেছেন। তিনি অত্যন্ত ভালোভাবে কাজ করেছেন। তাঁর বিষয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছে। কিন্তু সচিব পরিবর্তনের কথা একবারও ভাবিনি। বিধান অনুসারে সরকারি কর্মকর্তাদের একটি সময়সীমার পর অবসরে যেতে হয়। এ কারণে তিনি অবসরে যাচ্ছেন। কৃষি সচিব হিসেবে মো: নাসিরুজ্জামানের নানান দিক তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখনো কৃষিতে তাঁর অবদান রাখার অনেক সুযোগ রয়েছে। চালের মান উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি কখনো সম্মানজনক পেশা ছিলো না এক সময় তো ‘চাষা’ বলে গালিও প্রচলিত ছিলো। সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ে কাজ করা এখন সম্মানের বিষয়। এখনো বিভিন্ন প্রতিকুলতার কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ভিয়েতনাম অনেক কৃষিপন্য রফতানী করে। আমরা কেন পারবো না!

মো: নাসিরুজ্জামান

নিজকে কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী কৃষি সচিব মো: নাসিরুজ্জামান বলেন, শেরপুরের ডিসি থাকাকালে কৃষির নানান বিষয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটেছে। তিনি বলেন, সব সময় আমার মাথার মধ্যে কৃষি কাজ করে। বিদায়ী কৃষি সচিব বলেন, টোটাল কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি কোয়ালিটি বীজ না হলে উৎপাদন বাড়বে না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিদায়ী কৃষি সচিব নিজকে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, যা শিখেছি তা অন্যকে শেখানোর চেষ্টা করেছি এবং নিজে করেছি। বিনা বেতনে হলেও সরকারের কৃষি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে বিদায়ী কৃষি সচিব মো: নাসিরুজ্জামান।

আরিফুর রহমান অপু

অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আরিফুর রহমানু অপু বলেন, বিদায়ী কৃষি সচিব দেশের কৃষিতে অনেক অবদান রেখেছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে উন্নতি এনেছেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকুরিতে অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকে। অবসরে যাবার কারনে বিদায়ী কৃষি সচিবের সকল অপসন খুলে গেছে। এখন সাবেক সচিব হিসেবে মো: নাসিরুজ্জামান অনেক অবদান রাখতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমানু অপু।

হাসানুজ্জামান কল্লোল

অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, বিদায়ী কৃষি সচিব মো: নাসিরুজ্জামন সৌভাগ্যবান সচিব হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন। ভবিষ্যতেও তিনি কৃষিতে অবদান রাখতে পরবেন। সন্তানদের নামের উদাহরণ টেনে বিদায়ী কৃষি সচিব মো: নাসিরুজ্জামানকে অসম্প্রদায়িক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিদায়ী কৃষি সচিব কৃষকদের সঙ্গেই থাকবেন।

মো: দেলোয়ার হোসেন

যুগ্ম-সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদায়ী কৃষি সচিব ইজিগোইং কর্মকর্তা ছিলেন। তার রুমে ইজি এক্সসেজ ছিলো। তিনি যেকোন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতেন। এবং কারো কথা যুক্তিসঙ্গত হলে তা গ্রহণ করতেন। করোনার সময়ও প্রায় প্রতিদিন তিনি অফিস করেছেন বলে জানান যুগ্ম-সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন।