• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জুয়েলারীতে চুরির ঘটনার রহস্য উম্মোচন: স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার ৯ চোর

দখিনের সময়
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০, ২০২০, ২২:০৪ অপরাহ্ণ
জুয়েলারীতে চুরির ঘটনার রহস্য উম্মোচন: স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার ৯ চোর
সংবাদটি শেয়ার করুন...

কাজী হাফিজ ॥

আশ্রাব এন্ড সন্স জুয়েলার্সে দিনে দুপুরে ক্লুলেস চুরির ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। রবিবার (২০ ডিসেম্বর) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার এ ঘটনা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, চুরির পর চোর চক্রের সদস্যরা চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লায় অবস্থান নেয়।
বিএমপি কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার জানান, আটককৃত সোনাচোর চক্র দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বর্ণের দোকান, বিকাশের দোকান, মোবাইলের দোকান, কম্পিউটার ও ল্যাপটপের দোকানে দিনে দুপুরে অভিনব কৌশলে তালা কেটে চুরি করে। তালা ভাঙ্গার বিষয়টি আড়াল করার জন্য ব্যবহার করে পরনের লুঙ্গি। এরা চাঁদপুর, শরীয়তপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ডিএমপি ও সিএমপির বিভিন্ন থানায় দোকান চুরির একাধিক মামলায় এজাহার ও চার্জশিট ভুক্ত আসামী বলে জানিয়েছেন বিএমপি কমিশনার। দীর্ঘ নয়দিন টানা অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা থেকে হাসান ও নয়ন, ঢাকা থেকে অলি, সুমন ও আলাউদ্দিন এবং চট্টগ্রাম থেকে জামালকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের মধ্যে সুমন, অলি, জামাল এবং লিটন দোষ স্বীকার করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে।
গত ১৯ মার্চ কোতয়ালী মডেল থানাধীন ০৯ নং ওয়ার্ডস্থ কাটপট্টি আশ্রাব এন্ড সন্স জুয়েলার্স নামক দোকানের মালিক আনুমানিক সোয়া দুইটার সময় দোকান বন্ধ করে দুপুরের খাবার খেতে যায়। এই সুযোগ নেয় ওৎপেতে থাকা সংঘবদ্ধ চোরদল। আন্তঃজেলা পেশাদার সংঘবদ্ধ দোকান চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। চোরচক্র অভিনব কৌশলে তালা কেটে দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন আইটেমের প্রায় ১২৬ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়।

দোকানের মালিক বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে যাহার মামলা নং -৭০, তাং -১৯ /০৩/ ২০২০ ধারা -৪৬১ /৩৮০।
চোরচক্র সনাক্তসহ চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধারের জন্য কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার রাসেলকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়। মেধা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৯ জন চোরকে এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান সকলকে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক উভয় স্থানেই সিসি টিভি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর আহবান জানান। তিনি বলেন, মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার পুলিশ হবে জনতার। এই স্লোগানকে সামনে রেখে জনগণের নিরাপত্তাকল্পে সদা তৎপর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। চুরির ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ক্যামেরা থাকায় উপরোক্ত চুরির ঘটনাটি ডিটেকশন করা সম্ভব হয়েছে। অতি দ্রুত প্রত্যেক বাড়িতে, মহল্লায়, মার্কেটে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের সহযোগীতা করার জন্য সকলকে অনুরােধ জানাচ্ছি ।

ক্লুলেস চুরির ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের নেতৃত্বে থাকা সহকারী পুলিশ কমিশনার রাসেল বলেন, চোর চক্রটা ধরা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিলো। ডিজিটাল ট্যুলস এবং বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে আমরা তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ চুরির মামলার বাদি আশ্রাব এন্ড সন্স জুয়েলার্স এর স্বত্তাধিকারী পুলিশের এই সাহসী অভিযানের প্রশংসা করেন এবং কোতোয়ালি মডেল থানার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চোর চক্রের সদস্যরা হলোঃ

সুমন (৩৭ ), কোতয়ালী, বরিশাল -০৭ টি মামলা, অলি (৩০), তিতাস, কুমিল্লা -০৬ টি মামলা, জামাল (৪০), দেবীদ্বার, কুমিল্লা -০৭ টি মামলা, লিটন (২৮), পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম -০৪ টি মামলা, আলাউদ্দিন (২৫) মুরাদনগর, কুমিল্লা -০৬ টি মামলা, হাসান (১৭), মুরাদনগর, কুমিল্লা -০১টি মামলা, নয়ন (২২), নারায়ণগঞ্জ -০৫ টি মামলা, জসিম ওরফে জনি (২৮), কচুয়া, চাঁদপুর-০৬ টি মামলা, শুক্কর (২০), লক্ষীপুর-০৪ টি মামলা, সহকারী পুলিশ কমিশনার, কোতয়ালী মডেল থানা, রাসেল এর নেতৃত্বে কোতয়ালী মডেল থানার একটি চৌকস টিম সিএমপির হালিশহর থানা এলাকা থেকে ছদ্মবেশে অবস্থান করে লিটনকে গ্রেফতার পূর্বক চোরাইকৃত ২টি স্বর্ণের আংটি, ২ টি মোবাইল এবং ১ টি মোবাইল সিম উদ্ধার করেন। এই মোবাইল দুটি এবং সিমটি চুরির সময় যোগাযোগের জন্য চোর চক্র ব্যবহার করেছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার রহস্যসহ অপর অপরাধীদের সম্পর্কে বহু তথ্য পাওয়া যায়।