1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও

স্বজন ও সহকর্মীদের চোখের জ্বলে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির শেষ বিদায়

dokhinersomoy
September 13, 2026 1:02 am
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

শ্রদ্ধা-ভালোবাসা আর সহকর্মী ও স্বজনদের চোখের জ্বলে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জিকে। তিনি প্রেসক্লাবের বর্তমান কার্যকরী সংসদের সদস্য ছিলেন।

শনিবার দুপুরে বরিশাল সিটির প্রশাসক, বরিশাল প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে বরিশাল মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন এবং তাঁর দীর্ঘ দিনের অগ্রজ, অনুজ এবং সমবয়সী সহকর্মীরা। জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিককে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান গোটা মিডিয়াঙ্গন।

এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকাল বরিশাল ব্যুরো অফিস থেকে পুলক চ্যাটার্জির গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তাঁর পকেট থেকে পাঁচটি চিঠি উদ্ধার করা হয়।

প্রশাসন, স্ত্রী-কন্যা, ভাই, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এবং সমকাল ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয় আবেগঘন চিঠিগুলো।

এদিকে- শনিবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহত পুলক চ্যাটার্জির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে সহকর্মীরা পুলক চ্যাটার্জির মৃতদেহ নিয়ে যান বরিশাল প্রেসক্লাবে।

সেখানে ফুল দিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল প্রেসক্লাব, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আনোয়ারুল হক তারিন, সমকাল বরিশাল অফিস, বার্তা সম্পাদক ফোরাম বরিশাল, ফটো সাংবাদিক পরিষদ।

এর আগে পুলক চ্যাটার্জির কর্মময় জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে বক্তব্য দেন- সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, ক্রীড়া সংগঠক আনোয়ারুল হক তারিন, সমকাল বরিশাল ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরী, প্রয়াত পুলক চ্যাটার্জির ভাই দীপক চ্যাটার্জি।

এসময় বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী আল মামুন, বর্তমান সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহমেদ, কাজী মিরাজ মাহমুদ, বর্তমান কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এম মোফাজ্জেল, কোষাধ্যক্ষ সুখেন্দু এদবর, ক্রীড়া সম্পাদক খান রুবেল, পাঠাগার সম্পাদক কেএম নয়ন, দপ্তর সম্পাদক নাসির উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য কমল সেনগুপ্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া, এম জহির, মাঈনুল ইসলাম সবুজ, শাহীন হাসান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গোপাল সরকার, সাইফুর রহমান মিরন, জিয়া শাহীন, গিয়াস উদ্দিন সুমন, বেলায়েত বাবলু, কাওসার হোসেন রানা, দেবাশীষ চক্রবর্তী, জিয়াউদ্দিন বাবু, কাওসার হোসেন, জে খান স্বপন, মর্তুজা জুয়েল, এম. লোকমান হোসাইন, এম সুহাদ, মুশফিক সৌরভ, কামরুজ্জামান জুয়েল রানা, আল আমিন জুয়েলসহ সকল পর্যায়ের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে পুলক চ্যাটার্জির মৃতদেহ শেষ বারের মতো নগরীর কালীবাড়ি রোডে বরিশাল কলেজ সংলগ্ন নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতদেহ বাসায় পৌঁছাতেই সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। স্বজনদের আর্তনাদ আর বিলাপে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।

পরে বিকেল ৩টার দিকে পুলক চ্যাটার্জির শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে নিয়ে যাওয়া হয় বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে। সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তি এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তাঁর অন্ত্যেষ্টক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সমকাল ব্যুরো অফিস থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর কিছুটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পরলেও রাতে পুুলিশ প্রশাসন জানায় তারা মৃতদেহের পকেট থেকে ৫টি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছেন। যাতে আত্মহত্যার সুস্পষ্ট আলামত রয়েছে। চিঠিগুলো ছিল প্রশাসন, স্ত্রী-কন্যা, প্রেসক্লাবের সম্পাদক, সমকালের বর্তমান ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরী এবং তার ভাই দিপকের কাছে।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠি-
“আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমি শরীরের রোগ যন্ত্রনা সহ্য করতে পারছি না। সুস্থ থাকার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। ইন্ডিয়ার ভেলোর পর্যন্ত ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু সুস্থ হতে পারিনি। অসুস্থতা আমাকে সামাজিক ভাবেও পিছিয়ে দিচ্ছে। শরীরের যন্ত্রার কারণে কোথাও যেতে পারতাম না। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ কোন প্রকার হয়রানি না করে আমার লাশ আমার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।” নোটের নিচে নিজের নাম এবং তারিখ লেখা রয়েছে।”

বরিশাল প্রেসক্লাব সম্পাদককে লেখা চিঠি-
“জাকির, বিদায়,। তোমার সাথে আমার অনেক স্মৃতি। আমার মরদেহ প্রশাসনিক হয়রানি ছাড়া পরিবারের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করিও। আমি যেহেতু স্বেচ্ছায় আত্মহনন করলাম তাই ময়নাতদন্ত করার প্রয়োজন নাই। পারলে তোমার বউদি ও প্রকৃতিকে মাঝে মাঝে খোঁজ নিয়ো।”

স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে লেখা চিঠি-
“প্রিয়াঙ্কা/প্রকৃতি, আমাকে ক্ষমা করে দিও। পৃথিবীতে কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। প্রকৃতি তুমি পড়াশুনা এবং গান শেখা চালীয় যেও। প্রিয়াঙ্কা আমার অনুপস্থিতি তোমার জীবনে পুরণ হবার নয়। তার পরও কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। তোমার দিপক (চান) ভাইর সাথে থেক। দিপক তোমাদের আগলে রাখবে।”

ছোট ভাই ও বোনকে লেখা চিঠি –
“দিপক (চান)/ইতি, বিদায়,। প্রিয়াঙ্কা ও প্রকৃতিকে আগলে রাখিস। তোর ওপর অনেক বড় বোঝা চাপিয়ে গেলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিস। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও আমার ব্যাংক হিসাবের ব্যাপারে দেবাশীষের সঙ্গে আলাপ করে পদক্ষেপ নিস। প্রিয়াঙ্কা ও প্রকৃতিকে তোর কাছে রাখিস।”

সমকাল ব্যুরো প্রধানকে লেখা চিঠি-
“সুমন, বিদায়। তোমাকে বিবৃতকর অবস্থায় ফেলার জন্য দুঃখিত। এক সঙ্গে প্রায় দেড় যুগ কাজ করেছি। কখনো কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিও। যদি পার সমকালে আমার পাওনা টাকা আদায় করে তোমার বউদির হাতে দিও।”