• ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করেছিলেন মামুনুল হক

দখিনের সময়
প্রকাশিত এপ্রিল ২০, ২০২১, ১৫:০০ অপরাহ্ণ
দুটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করেছিলেন মামুনুল হক

দখিনের সময ডেক্স:

প্রথম বিয়ে ছাড়া দুটি কন্ট্রাকচ্যুয়াল (চুক্তিভিত্তিক) বিয়ে করেছিলেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে। অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিতেই দুই তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। সোমবার (১৯ এপ্রিল) থেকে সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন মাওলানা মামুনুল। মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গত রোববার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিমান্ডে সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্ট কাণ্ডের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে হেফাজতের এই নেতা জানান, শুরুতে স্বীকার করলে প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়বা বড় ধরনের কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতেন বলে তিনি আশঙ্কা করছিলেন। এ ভয়ের কারণে প্রথমে বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন বলেও জানান। খবর সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়।

রিমান্ড সংশ্লিষ্টদের কাছে মামুনুল হক আরও জানান, যে দুটি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ওই দুই নারীর সঙ্গে অনেক দিন ধরে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছেন তিনি। তার কাছে এ দুই বিয়ের কোনো কাবিন-বৈধ কাগজপত্র নেই। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম বিয়ে ছাড়া বাকি দুই বিয়ের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি মামুনুল। বিয়ের স্বাক্ষীদের নাম প্রকাশের ক্ষেত্রেও তিনি টাল-বাহানা করছেন। ওই দুই নারীর ডিভোর্স হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাদের দিকে এগিয়ে যান তিনি। একজনকে মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসায় চাকরিও দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা আরও জানান, মামুনুলের কথিত ছোট স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি। তবে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন তিনি। তার প্রথম স্ত্রীর নাম আমেনা তৈয়বা। কথিত মেজ ও ছোট স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের কোনো কাবিন হয়নি বলে পুলিশকে জানান মামুনুল। রিমান্ডে হেফাজতের অধিকাংশ কর্মসূচি ঘিরে কেন তাণ্ডব ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে জানতে চাইলে মামুনুল বলেছেন, আমি যেহেতু নেতা, এর দায় আমারও রয়েছে। আমাকে এর দায় নিতে হবে। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনও তো সংঘাতে জড়ায়। এ ছাড়া হেফাজতে ইসলাম যখন একটি সংগঠনের নাম, সে ক্ষেত্রে তারা কেন অন্যান্য দলের খারাপ দৃষ্টান্ত অনুকরণ করবে প্রশ্ন করা হলে মামুনুল চুপ ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামুনুলের কথিত দুই বিয়ের সাক্ষীদের শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডে তাকে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের যে মামলায় মামুনুলকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, সে-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ গতকাল জব্দ করা হয়েছে। মূলত, তাবলিগ জামাতকে কেন্দ্র করে জুবায়ের ও মোহাম্মদ সাদ কান্ধালভি গ্রুপের মধ্যে ওই মারামারি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। জানা গেছে, মামুনুল ছিলেন জুবায়েরপন্থী।