• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়নাল হাজারীর ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছিলেন সোলায়মান চৌধুরী

দখিনের সময়
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
জয়নাল হাজারীর ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছিলেন সোলায়মান চৌধুরী
দখিনের সময় রিপোর্ট:
পুরো ফেনী শহরে বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে দিয়ে রীতিমতো কমান্ডো স্টাইলে জয়নাল হাজারীর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিলো। পুরো পরিকল্পনার অন্যতম ‘মাস্টার মাইন্ড’ ছিলেন সোলায়মান চৌধুরী। সচিব হিসেবে চাকুরি থেকে আবসর নিয়ে তিনি জামায়াতে যোগদান করেন। পরে গঠন করেন ‍এবি পার্টি। আবার তিনি জামায়াতে ফিরছেন। এই সোলায়মান চৌধুরীর কারণেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো ফেনীর বহুল আলোচিত জয়নাল হাজারীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ফেনীর মাস্টার পাড়ায় জয়নাল হাজারীর বাসভবনে যে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয় তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাবেক এই সচিব। তখন তিনি ফেনীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই সময়ে এই ঘটনা সন্ত্রাস বিরোধী, গডফাদার বিরোধী বা এরকম মনে হলেও জয়নাল হাজারীকে জাতির সামনে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে আসলে পুরো আওয়ামী লীগকেই বিতর্কিত করা ছিল উদ্দেশ্য। অথচ তিনি আওয়ামী লীগ আমলেই ফেনীর জেলা প্রশাসক হয়েছিলেন। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারই তাকে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
ওই অভিযানের সময় জয়নাল হাজারী ভাগ্যগুণে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি তার রাজনৈতিক কর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষিদের সহযোগিতায় ভারতের ত্রিপুরায় গিয়ে অবস্থান নেন। ফলে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়নাল হাজারী অংশ নিতে পারেননি। ওই ঘটনা এমনভাবে প্রচার করা হয়, তাতে তার যে সব রাজনৈতিক সহকর্মী, সহযোদ্ধা ফেনীতে ছিলেন তাদেরকেও প্রশাসন কোণঠাসা করে ফেলে। পরে জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতা আসে। জয়নাল হাজারীর স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবনে ফেরার পথও রুদ্ধ হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা এই নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারই ধ্বংস হয়ে যায়।
ফেনীতে জয়নাল হাজারী বিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার পর পরই সোলায়মান চৌধুরী নিজেকে আওয়ামীবিরোধী হিসেবেও উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের কাছেই যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সেক্টর করপোরেশন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। পরে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যানও করা হয় তাকে। অবিভক্ত ঢাকার সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অতঃপর পাট ও বস্ত্র সচিব, তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সচিব করে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। সোলায়মান চৌধুরী ছাত্রজীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে সে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়। সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত জামায়াতের রাজনীতি করতো।