• ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের তাপমাত্রা তিন ডিগ্রির নীচে নামার রেকর্ডও আছে

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ২০:২১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের তাপমাত্রা তিন ডিগ্রির নীচে নামার রেকর্ডও আছে
দখিনের সময় ডেস্ক:
বাংলাদেশের তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নীচে নেমেছিলো, আর তা একাধিকবার। ১৯৬৪ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন, তিন দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। চার বছরের মাথায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রার পারদ আরও নীচে নামে। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সেখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড হয় দুই দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯৬৮ সালের রেকর্ডকে সহসা ছুঁতে পারেনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ওই সময়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ‍এ রেকর্ড জানাগেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে সেই ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় থেকে, অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড আছে। কিন্তু ঠিক ৫০ বছর পর, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের শীত ওই রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। সে বছর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাম্প্রতিক বছরগুলো নয় শুধু, ইতিহাসে এটিই হলো এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা।
ওই একই বছর উত্তরাঞ্চলের বিভাগ রংপুরের সৈয়দপুরের তাপমাত্রাও রেকর্ড ভেঙ্গেছিলো, এটি গিয়ে ঠেকেছিলো দুই দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২০১৮ সালে উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর ডিমলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট এবং দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল তিনের ঘরে। সেগুলো হলো যথাক্রমে– তিন, তিন দশমিক এক এবং তিন দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেসময় রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে তিন দশমিক পাঁচ, তিন দশমিক দুই ও তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তালিকায় আছে রাজশাহীও। ২০০৩ সালে সেখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তিন দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মাঝে অন্যতম। রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু, রাঙ্গামাটি শৈত্যপ্রবাহ প্রবণ অঞ্চল।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বলছে, শীতকালে উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রাই সবসময় সবচেয়ে কম থাকে। এর কারণ, শৈত্যপ্রবাহ বা তাপদাহের প্রবেশদ্বার হলো বাংলাদেশের ওই অঞ্চল। শীতকালে উত্তর ভারতের দিল্লি-কাশ্মীর অঞ্চল খুব ঠাণ্ডা থাকে। আর পৃথিবীর স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহের নিয়ম অনুযায়ী বাতাস পশিম থেকে পূর্ব দিকে যায়। অর্থাৎ, ভারতের দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া বেল্ট ধরে তা বাংলাদেশে ঢোকে।