• ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাসচালককে ‘পেটানো’র ঘটনা সার্কেল এসপির বিষয়ে তদন্তে কমিটি গঠন

দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ১৮:৪৬ অপরাহ্ণ
বাসচালককে ‘পেটানো’র ঘটনা সার্কেল এসপির বিষয়ে তদন্তে কমিটি গঠন
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় ডেস্ক:
নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিটে বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে এক বাসচালককে অফিসে ডেকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায় সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টায় পুলিশ মিডিয়া গ্রুপ নওগাঁর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের এ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে ‘স্বামীর সঙ্গে তর্ক, বাসচালককে ‘অফিসে ডেকে পেটালেন’ সার্কেল এসপি’  শিরোনামে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ৪ জানুয়ারি সাপাহার সার্কেলের এএসপি এবং একজন বাসচালকের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনা সংগঠিত হয় মর্মে ৬ জানুয়ারি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। সংবাদটি আমার দৃষ্টিতে আসার পরেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাস রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে ছাড়ে। রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ওই বাসে যাত্রী হয়ে ধানসুরা নামার উদ্দেশ্যে সিটবিহীন টিকিট কেটে উঠেছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মনের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মন। বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে ওই স্টপেজ থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীর যেই সিটে জয়ন্ত বর্মণ বসেছিলেন সেটি থেকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। ওই সময়ে নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দিতে শুরু করেন জয়ন্ত। একপর্যায়ে সৃষ্ট তর্ক বাড়তে থাকলে সিট ছেড়ে দিয়ে বাসচালক বাদলের কাছে এগিয়ে যান জয়ন্ত। চালকের সঙ্গে চলে তুমুল বাকবিতণ্ডা। এরপর নির্ধারিত গন্তব্যে ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান জয়ন্ত বর্মণ।
এদিকে জয়ন্ত বর্মণ গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণ। টিকিট মাস্টারের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করেন তিনি। এরপর চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি-ধমকি দেন শ্যামলী রানী বর্মণ। পরবর্তীতে রাত ১০টায় ‘হিমাচল’ পরিবহনের চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে আনেন শ্যামলী রানী বর্মণ। সেখানে পৌঁছানোর চালকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে শ্যামলী রানী বর্মণ, তার স্বামী জয়ন্ত বর্মন ও শ্যামলী রানীর দেহরক্ষী চালককে মারধর করেন। ভুক্তভোগী চালক ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব বর্ণনা দেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়।