1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপিনেতা হত্যায় দেবরকে দায়ী করলেন স্ত্রী, ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

dokhinersomoy
October 25, 2026 11:31 am
Link Copied!

দখিনের সময় রিপোর্ট:
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী এবং অর্থের যোগানদাতা তারই আপন ছোট ভাই আলমগীর শিকদার। এমন অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার। তিনি বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি হেলাল পরিচয় দিয়ে কারাগার থেকে ফোন করে তাকে এসব কথা জানানো হয়েছে। ২৪ অক্টোবর বিকেলে মিঠামইন উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিহত জাহাঙ্গীরের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ নিহতের স্ত্রী।
তাসলিমা আক্তার অভিযোগ করেন, রিমান্ডে আলমগীরের নাম বলার পর হেলালকে মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার মারধর করেছে এবং শরীরে ইনজেকশন পুশ করেছে। যার কারণে সে বাধ্য হয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আলমগীরের নাম বলেনি। তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা খোকাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার পর বাদীকে দেখার সুযোগ না দিয়ে আলমগীর শিকদারের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় কেন- এর জবাব চাই। ওসি মনোয়ারের ষড়যন্ত্রের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।’
তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘মামলার শুরুতে আলমগীর শিকদারের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। তাহলে পরবর্তীতে কেন তাকে দেশ থেকে পালাতে পাসপোর্ট দিয়ে সাহায্য করা হলো। মামলা মিঠামইন থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করার পর থেকে আলমগীর শিকদার পলাতক। প্রশাসন যেন অতি দ্রুত তার পাসপোর্ট জব্দ করে। তার দেশত্যাগে কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ সহায়তা করে থাকলে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।’ তাসলিমা আক্তার আরও বলেন, ‘মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে আমার স্বামী জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে আলমগীর শিকদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন, আলমগীর শিকদার তাকে খুন করতে পারে এবং সে আশংকাই সত্যি হয়েছে। জাহাঙ্গীরের ভাই-বোনেরাও আলমগীর শিকদারের শাস্তি নিশ্চিত করতে চায়। ওই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই সাব্বির। জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের পরেরদিন সাব্বিরকে কেন তাড়াহুড়ো করে বদলি করা হয়। আপনাদের মাধ্যমে সেটার জবাব পেতে চাই।’
নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘এ ছাড়া বাচ্চু এই হত্যাকাণ্ডের আরেকজন প্রধান অভিযুক্ত। আমার জানা ও উত্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, খুনি ভাড়া করা, খুনিদের লালন-পালন করা এবং তাদের থাকার জন্য বাসা ভাড়া নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাচ্চুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বাচ্চুকে এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?’ তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য আমি মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরের আবেদন করেছি। আমি দ্রুত এই মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের আওতায় আসে।’
নিহতের বড় বোন
যা বলেন
নিহত জাহাঙ্গীরের বড় বোন নাদিরা পারভীন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা যেনো এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাড়াবাড়ি না করি সেজন্য আলমগীর আমাদের ভাইবোনকে ফোনে হুমকি দিচ্ছে।’
এদিকে বিকেলে মিঠামইন সদরে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় জড়িত মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গণমিছিল করে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। অভিযোগের বিষয়ে নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আলমগীর বলেন, এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন।
ওসি-এসপির
বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন ওই ফোনালাপে হেলাল ও বাদী প্রকৃতপক্ষে ছিল কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। এই ফোনালাপটি এআই নির্মিত বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘ফোনালাপের বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহ হচ্ছে। তবে বাদী পক্ষের উচিত হয়নি এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা। এটি পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা এটা তদন্ত করে দেখব। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে আমরা লিখিত দেব। ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।’