দখিনের সময় ডেক্স:
শিশুদের ওপর সহিংসতা দমন ও প্রতিরোধে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিদ্যমান আইনের আওতায় সারা দেশে গঠন করা হয়েছে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। এসব ট্রাইব্যুনালে শিশু নির্যাতনের মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ১ হাজার ৯২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গত নয় মাসে ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে দুটি মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গত ৭ জুন পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মামলাটির বিচার শেষ করে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ২০০০ সালে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ প্রণয়ন করে। এ আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য প্রতিটি জেলা সদরে একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার কোনো জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনালও গঠন করতে পারে। এসব ট্রাইব্যুনাল ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’ নামে পরিচিত। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এসব ট্রাইব্যুনাল গঠনের মূল লক্ষ্য।
এরই ধারাবাহিকতায় শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারে সরকার পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেয়। এর উদ্দেশ্য ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ, ভিকটিমকে সুরক্ষা দেওয়া এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালেরই অংশ। নবগঠিত এই ট্রাইব্যুনাল গত বছর জুন মাস থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করে। এই ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের পর হত্যার মামলার বিচার করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বাসসকে বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ট্রাইব্যুনালে ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ৬টি মামলার মধ্যে ২টি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং ৪টি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বলেন, শিশু সহিংসতার মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এসব মামলায় ট্রাইব্যুনাল কারাদণ্ডের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সেই বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করছেন।