স্টাফ রিপোর্টার:
উচ্চ আদালতের আদেশ অবমাননার অভিযোগ উঠেছে শ্রীগুরু সঙ্ঘ কেন্দ্রীয় আশ্রমের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে আশ্রমের কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কেন্দ্রীয় আশ্রমের তহবিল তসরুপের অভিযোগও করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীগুরু সঙ্ঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমের সাবেক নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্যে এমন অভিযোগ করেন।
এসময় তাঁরা পিরোজপুরের কাউখালীতে অবস্থিত শ্রীগুরু সঙ্ঘ কেন্দ্রীয় আশ্রমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে সঙ্ঘের সাবেক নেতা প্রশান কুমার দাশ, বিপ্লব দেবনাথ, পরিমল চন্দ্র দে, চন্দ্র শেখর দে ও বিমল কৃষ্ণ পাল উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আশ্রমের সাবেক নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. প্রদীপ কর্মকার বলেন, ‘কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসান কবিরের ছত্রছায়ায় গত দুই বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী শ্রীগুরু সঙ্ঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রম দখল করে লুটপাট করছেন অবৈধ কমিটির নির্বাহী সভাপতি পরিমল কর্মকার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ মণ্ডল এবং তাদের সহযোগিরা।। তিনি বলেন, শ্রীগুরু সঙ্ঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রম ৫ বছর মেয়াদী ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আলোচনা ও নোটিশ ছাড়াই ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ। কিন্তু কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করতে হলে অবশ্যই তা নির্বাহী পরিষদের মিটিংয়ে এজেন্ডার আকারে নিয়ে আসতে হবে। সংশোধিত গঠনতন্ত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ ২.২.ঘ ধারা লঙ্ঘন করে ১১ জন উপদেষ্টার পরবির্তে ২১ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমন্বয়ে আহবায়ক (এডহক) কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ডা. প্রদীপ কর্মকার জানান, অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন তারা। এর প্রেক্ষিতে একই বছর ১৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিতর্কিত কমিটি অবৈধ ঘোষণা করেন এবং তিন মাসের ভিতরে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং এই রায়ের বিরুদ্ধে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রীম কোর্টের এপিলেট ডিভিশনে আপীল করে অবৈধ কমিটি। কিন্তু তাদের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি করে দ্রুত নিস্পত্তির আদেশ দেন। এরপরও অবৈধ কমিটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পেছনে থেকে যার কলকাঠি নাড়ছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি বলেন, ১০২৫ সালের ১৩ জুন কমিটি গঠনের পর তড়িঘড়ি শপথ গ্রহণ করলে সাধারণ সম্পাদক (ভারতীয় নাগরিক) রনঞ্জয় কৃষ্ণ দত্ত ও সহ-সাধারণ সম্পাদক রতন লাল কর রাতের আধাঁরে পালিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত তারা আশ্রমে ফেরেননি। সাবেক কোষাধ্যক্ষ বরণ ঘোষের বিরুদ্ধে আশ্রমের অর্থ তসরুফের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করে পরিতোষ মন্ডল। অথচ সেই মামলায় পলাতক রনঞ্জয় কৃষ্ণ ও রতন লালকে আসামি করা হয়নি। পরবর্তিতে আদালত বরণ ঘোষকে স্থায়ী জামিন দেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীগুরু সঙ্ঘের কেন্দ্রীয় আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পরিতোষ মণ্ডল। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা বৈধভাবে আশ্রমের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।