1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. চাকরি
  7. জাতীয়
  8. জীবনযাপন
  9. পুঁজিবাজার
  10. ফিচার
  11. বাণিজ্য
  12. বাংলাদেশ
  13. বিনোদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজনীতির অনেক অনুষ্ঠান চলে মাদকের টাকায়

dokhinersomoy
October 25, 2026 4:26 pm
Link Copied!

মাসখানেক আগে তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এক বক্তৃতায় বলেছেন, ‘দেশে এক কোটি মানুষ মাদকাসক্ত।’ এতে আমার এক ধরনের আতঙ্কের অনুভূতি হলো। আতঙ্কের বিষয়টি জানা কথা, তবুও শুনলে ভয় লাগে। চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা শুনলে জেনারেল এরশাদের যেমন হতো বলে রটনা আছে। এ ব্যাপারে একটি রসালো গল্পও আছে। যে নরসুন্দর জেনারেল এরশাদের চুল কাটতেন, তিনি প্রায়ই জিজ্ঞেস করতেন, স্যার চট্টগ্রাম কবে যাবেন? এরশাদ নিশ্চুপ থাকতেন। তার শুধু মনে পড়ত, জেনারেল মঞ্জুরের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের কথা। একপর্যায়ে তার মনের গহিনে সন্দেহের উদ্রেক হলো। তিনি গোয়েন্দাপ্রধানকে বিষয়টাটি দেখার জন্য বললেন। ব্যস! নরসুন্দকে ধরে নেওয়া হলো।
ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করার আগেই ভ্যাঁ করে কেঁদে বেচারা বলল, ‘চট্টগ্রামের কথা বললেই স্যারের চুল দাঁড়িয়ে যায়, আমার কাটতে সুবিধা হয়।’ বলতে গেলে আমারও একই দশা, তবে চট্টগ্রামের বিষয়ে নয়। এ অবস্থা হয় মাদকের ব্যাপারে। আমার একমাত্র ছেলে এখন টগবগে যুবক, হাইকোর্টের উকিল। তার কিশোর বয়সে আল্লাহ-আল্লাহ করতাম, অমার ছেলে খুনের মামলায় পড়লেও যেন মাদকের নেশায় না পড়ে। আমি অনেক খুনিকে চিনি, যারা দেশের এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু কোনো মাদকাসক্ত নিজেকে নিঃশেষ করা ছাড়া আর কিছু পারে না।
বলাবাহুল্য, পেশাগত কারণে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমার একটু বেশিই ধারণা ছিল। এদিকে বহু বছর আগে অরুপ রতন চৌধুরীকে এক বক্তৃতায় বলতে শুনেছি. ‘নেশার গুরু, ধূমপান দিয়ে শুরু!’ সেই বক্তৃতা আমার মগজে এতটাই গেঁথে গিয়েছিল যে, ধূমপায়ী কাউকে আমার বাসার ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে দিতাম না। কিন্তু অমার বাসা থেকে বের হলেই পথের দুই ধারে ৫০ গজের মধ্যে অন্তত ৫০ জন মাদকাশক্তকে চিনতাম। দেখেছি পরিবারের অসহায় দশা, আর মাদকাসক্ত ব্যক্তির করুণ পরিণতি। কিন্তু কিছু করার ছিল না। এমনকি রিপোর্ট করারও সাহস হয়নি কখনো। বহু বছর পরে বিভিন্ন পত্রিকায় মাদকের আগ্রাসন প্রসঙ্গে ইনিয়েবিনিয়ে কলাম লেখার সাহস দেখালাম। আমি জানতাম, এই লেখা এক ধরনের অরণ্যে রোদন। এরপরও বরিশালে মাদক চক্রের হামলার শিকার হয়ে ৯ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। হামলার এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি, আসামি ধরা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের বিচারে আসামিরা ‘নির্দোষ’ প্রমাণিত হয়েছে। যেন অমার ওপর কোনো হামলাই হয়নি, হয়তো আমার হাত ভেঙেছে বাতাসে! আমি এই কষ্ট নিয়ে আছি।
ইশরাক হোসেনও কী এ রকম অথবা আরও বড় কোনো কষ্ট দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে নিজেই বন্দুক হাতে অ্যাকশনে নেমেছিলেন, কে জানে! তিনি কেন বুঝলেন না, মন্ত্রীর কাজ করা নয়, করানো। ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রী হয়েও যে মাদকের বিরুদ্ধে নিজেই ‘অভিযানে’ নেমেছিলেন সেই মাদকের আগ্রাসন নতুন কিছু নয়। অনেকের বিবেচনায়, রাজনীতির অনেক অনুষ্ঠান, এমনকি মাদকবিরোধী অনেক অনুষ্ঠান চলে মাদক কারবারিদের টাকায়। এদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার উদারণও আছে। এমনকি শেখ হাসিনার রাজত্বে সংসদ সদস্যও হয়েছেন দেশের স্বীকৃত মাদক ব্যবসায়ী বদি। আবার এটি মনে করার কোনো কারণ নেই, মাদক কারবারিরা শুধু শেখ হাসিনার সময় ক্ষমতাধর ছিল। এরা চিরকালই ক্ষমতাধর।
লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক
দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত, ২২ অক্টোবর ২০২। শিরোনাম, ‘মাদক কারবারিদের আগ্রাসনে সর্বনাশের পদধ্বনি’