নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশালের হিজলায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা, মারধর, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন নুর মোহাম্মদ নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আদালতে নালিশি মামলা দায়েরের পরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নুর মোহাম্মদ।তিনি হিজলা উপজেলার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রশিদ আকনের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে নুর মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, হিজলার শ্রীপুর এলাকার আবুল বাশার সিকদার, তার ছেলে সোহাগ সিকদার, মৃত ফজলুল হকের ছেলে মতিন তালুকদার ও মোয়াজ্জেম তালুকদার, মৃত আব্দুর রহিম সিকদারের ছেলে নেহাল হোসেন নেকু ও কবির হোসেন সিকদার, ইয়াসিন খানের ছেলে আজাদ খান এবং আব্দুর রহিম মিস্ত্রির ছেলে জাহাঙ্গীর ঘরামীসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন।
তিনি বলেন, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সোহাগ সিকদারের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হিজলা থানাধীন বড়জালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তার বসতবাড়ির সামনের সড়কে গিয়ে তাকে ডেকে নেন। এ সময় এলাকায় চাকরি করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় এবং চোখের পাশে গুরুতর আঘাত পেয়ে সেলাই দিতে হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। নুর মোহাম্মদের দাবি, ওই সময় ১৫ দিনের মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় হিজলা থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর গত ২০ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে জেলা-মুলাদী প্রধান সড়কের আফসার উদ্দিন মাদ্রাসার সামনে তার পথরোধ করা হয়। এ সময় থানায় অভিযোগ করার কারণে তাকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সোহাগ সিকদার লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। অন্য অভিযুক্তরাও লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নুর মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার পকেট থেকে নগদ ৭২ হাজার ৩২০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি চাঁদার টাকা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হামলার পর তাকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
নুর মোহাম্মদ জানান, এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নুর মোহাম্মদ তার ওপর হামলা, চাঁদা দাবি, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ভয়ে এলাকায় ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরির জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।