সেবার পরিধি এত বিস্তৃত যে, সেবার কথা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। আজকাল অনেকেই সমাজসেবক হতে চান, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন। নিঃসন্দেহে এটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু তার আগে ভেবে দেখা দরকার—আপনি যে এলাকার মানুষের সেবা করতে চান, সেই মানুষগুলোর কাছে আপনি আসলে কী নামে পরিচিত? সেবার মধ্যে সর্বোত্তম হলো মানবসেবা। কিন্তু যারা সমাজ ও মানুষের সেবা করতে চান, তাদের আগে নিজেদের কাছে একটি প্রশ্ন করা উচিত—আমি কী ধরনের সেবা করতে চাই?
কেউ যদি চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা, মিথ্যা মামলা কিংবা অন্যায় ও অসততার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে শুধু নিজেকে সমাজসেবক দাবি করলেই কি সত্যিকারের সমাজসেবক হওয়া যায়? একজন প্রকৃত সমাজসেবককে অবশ্যই এসব অন্যায়ের ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকে একজন মানবদরদি, দানশীল, নীতিবান ও ন্যায়ের পক্ষে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
সমাজসেবক হওয়ার পরিচয় কথায় নয়, কর্মে প্রমাণ করতে হয়। আপনি মানুষের জন্য কী করেছেন, সমাজের উন্নয়নে কতটুকু অবদান রেখেছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে কতটা নিয়োজিত করেছেন—সেটিই আপনার প্রকৃত পরিচয় বহন করবে।
তাই নিজেকে নিজে ‘সমাজসেবক’ বা ‘মানবসেবক’ না বলে এমন কাজ করুন, যাতে অন্যরা আপনাকে সমাজসেবক বলতে বাধ্য হয়। আপনার কর্মই হোক আপনার পরিচয়, মানুষের ভালোবাসাই হোক আপনার স্বীকৃতি।
দুঃখজনক হলেও সত্য, কখনো কখনো সমাজে এমন মানুষও দেখা যায়, যারা অন্যায় ও অসততার সঙ্গে জড়িত থেকেও নিজেদের বড় সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। কিন্তু প্রকৃত বিচার একদিন সমাজের মানুষই করবে। তাই যারা সত্যিই সমাজসেবক হতে চাই, আসুন আমরা নিজেদের বিচার করার দায়িত্ব সমাজের মানুষের ওপর ছেড়ে দিই। মানুষই নির্ধারণ করুক—কে প্রকৃত সমাজসেবক, কে মানবসেবক এবং কে সত্যিকার অর্থে দেশসেবক।
সেবা দাবি করার বিষয় নয়, সেবা হলো অর্জন করার বিষয়।