সমাজকে অশান্ত করে এমন কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না: বিএমপি কমিশনার
দখিনের সময়
প্রকাশিত নভেম্বর ১০, ২০২০, ১৯:২৮ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন...
জুবায়ের আল মামুম ও নাদিম মাহমুদ ॥
বরিশাল মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেছেন, ওপেন হাউজ ডে’র উদ্দেশ্য প্রধানত তিনটি। এর মধ্যে এক নম্বর হচ্ছে, ভুক্তভোগীদের কথা শোনা। গতকাল মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানা আয়োজিত ওডেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, সমাজকে অশান্ত করে এমন কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
বিমানবন্দর থানার নির্মানাধীন নিজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ডিসি (উত্তর) মো: খায়রুল আলম, বিশিষ্টজন আবদুর রব, রাশিদুল হাসান, মিজানুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই গত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সে বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা তুলে ধরা হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেন, প্রকাশ্যে ও গোপনে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিন, নির্ভেজাল সেবা নিন। পুলিশ-জনতা সবাই সবার অবস্থান থেকে সম্মিলিত উদ্যোগে অপরাধ দানাবাঁধার আগেই দমনের আন্তরিক অংশগ্রহণে সামাজিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ নগরী উপহার দেয়া সম্ভব মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার। এ সময় পুলিশের মাইন্ড সেট পরিবর্তন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন বিএমপি কমিশনার।
পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেন, জনগণের কাছ থেকে তিন ধরনের ন্যায়-অন্যায় সরাসরি শুনে, লিপিবদ্ধ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নির্ভেজাল সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য ‘ওপেন হাউজ ডে’। এর প্রধান তিনটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, এক. সরাসরি ভুক্তভোগীর কথা, দুই. সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ জনগণের গঠনমূলক পরামর্শ শোনা এবং তিন. কোন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম, কর্তব্যে ব্যত্যয়ের খবর জানা। সমাজের সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করে আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন, আমরা ভেজাল না নির্ভেজাল সেবা দিচ্ছি তা এ ওপেন হাউজ ডে’তে সরাসরি জানান। আমরা নিজেদের জবাবদিহিতা ডেকে নিয়ে এসে পরবর্তীতে সেবার অগ্রগতি আপনাদের সম্মুখে জানিয়ে থাকি। তাই ব্যক্তিগত সমস্যা না থাকলেও সমাজের সম্মিলিত সমস্যা চিহ্নিত করে আমাদের জানাতে পারেন। ছোটখাটো সমস্যাসমূহ সামাজিকভাবে ফয়সালা করতে পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন। বিএমপি কমিশনার বলেন, মিটিং হলো সংগঠনের প্রাণ, প্রাণ না থাকলে সংগঠনের কোন দাম নেই। ওয়ার্ড ভিত্তিক বেশি বেশি মিটিং করে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। করোনা প্রতিরোধে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার জন্য গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, আমরা যদি সুস্থ্য থাকি অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে, দেশ সমুন্নত থাকবে। সুতরাং দেশকে বাঁচাতে নিজেদের আরও দায়িত্বশীল হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো: খাইরুল আলম বলেন, আমরা এখন মুজিব বর্ষে অবস্থান করছি। আগ্রহ নিয়ে মনের কথা খুলে বলুন, আমরা আপনাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে বিন্দু মাত্র দেরী করবো না। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নির্ভেজাল সেবা দানের মাধ্যমে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাই। আমরা যে-কোন তথ্য আন্তরিক হয়ে জেনে সে অনুযায়ী সাধ্যমত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই, নির্ভেজাল সেবা নিশ্চিত করতে চাই। আপনাদের আন্তরিক অংশগ্রহণে একটি নিরাপদ নগরী উপহার দিতে চাই। আপনারা কোন তথ্য গোপন রাখবেন না বরং নির্ভয়ে পরিচয় গোপন রেখে আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। থানার কার্যক্রমে আপনাদের কোন অসন্তোষ বা পরামর্শ রয়েছে কি-না আমাদের জানান। আমরা তথ্যের ভিত্তিতে আরও সমৃদ্ধ হয়ে সেবা পৌঁছে দিতে আরও বেগবান হবো। দুর্নীতিমুক্ত সেবা পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বিএমপি উত্তর মোঃ ফজলুল করীম বলেন, ওপেন হাউজ ডে’তে ভুক্তভোগী’র সমস্যাসমূহ সরাসরি শুনে সম্ভাবণায় পরিনত করা হয়। পুলিশ জনতা এক হয়ে কাজ করলে এ সমাজ থেকে অপরাধ দমন করা সম্ভব। সহকারী পুলিশ কমিশনার নাসরিন জাহান অপরাধ দমনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি জনগণেরও দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। আমাদের নির্ভয়ে তথ্য দিয়ে পাশে থাকুন, আমরা একটি সুন্দর সমাজ উপহার দিতে পারবো।