দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডিজিটাল কিশোর গ্যাং, চলে চাঁদাবাজী-সন্ত্রাস
দখিনের সময়
প্রকাশিত আগস্ট ৩, ২০২০, ০৫:১০ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন...
স্টাফ রিপোর্টার:
লাইকি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরী হয়েছে ‘ডিজিটাল কিশোর গ্যাং!’ লাইকি নামক একটি অ্যাপস ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে এই ডিজিটাল কিশোর গ্যাংগ। এরা ফেসবুকের অপব্যবহার করছে। ছদ্মাবরণে চলে সন্ত্রাস ও ডিজিটাল চাঁদাবাজী। এরা নিজেদের দাপট প্রতিষ্ঠা করার জন্য হামলাও করে প্রকাশ্যে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ২ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায়। এ ঘটনার চরম শিকার হয়েছেন একজন ইঞ্জিনিয়ার।
উল্লেখ্য, ‘লাইকি’ একটি অ্যাপস যেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ধরণের ভিডিও বানায় এবং পরে তা তাঁরা তাঁদের লাইকি অ্যাকাউন্ট অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা আপলোড করেন। এই ধরণের কর্মকাণ্ডর প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে নিজেদের ‘প্রতিভা’ অন্যদের সামনে তুলে ধরা। কিন্তূ বর্তমান সময়ে ঘটছে অন্যরকম ঘটনা। এই লাইকি ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ গড়ে তুলছে নিজস্ব কিশোর গ্যাং। যারা তাঁদের ভিডিও তৈরির নামে শুরু করছে অপরাধের নতুন পন্থা।
ঈদের দ্বিতীয় দিন ২ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় ‘ডিজিটাল কিশোর গ্যাং’-এর সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার রবিন এবং তার বন্ধুরা। ঐ দিন সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উত্তরার ৮ নাম্বার সেক্টরের পাবলিক কলেজের সামনে ৬০ থেকে ৭০ জন বিভিন্ন বয়সের কিশোর ওখানকার রাস্তায় জড়ো হয়। এই কিশোররা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছিল তথাকথিত ‘অপু ভাই’ নামক এক কিশোর। তাঁরা তাঁদের দলবল নিয়ে লাইকি এবং টিকটক ভিডিও বানাচ্ছিল এবং সেখানেই বসে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছিলো। এরা কাউকে রাস্তা দিয়ে যেতে দিচ্ছিলো না। ভিডিও বানানোর নামে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এমন সময় ইঞ্জিনিয়ার রবিন প্রাইভেট কার নিয়ে গলি থেকে বের হতে গেলে কিশোর দল বাধাদেয়। এক পর্যায়ে তারা মারমুখি হয়ে হামলা চালায়। এরমধ্যে লাঠি, বাইকের হেলমেট ও রড জাতীয় বস্তু ছিল। এই ঘটনা দেখতে পেয়ে ইঞ্জিনিয়ার রবিনের বন্ধুরা তাঁদেরকে বাঁচাতে আসলে ‘অপুর বাহিনী’ তাঁদেরকেও বেধরক মারধোর করে। এতে ইঞ্জিনিয়ার রবিনের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁর বন্ধুরা গুরুত্বর আহত হন। পরবর্তীতে অপু বলতে বলতে চলে যায়, ‘তোদেরকে মেরে ফেললেও পুলিশ প্রশাসন আমার কিচ্ছু করতে পারবে না’। এই ঘটনায় উত্তরার পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানাগেছে।
ঘটনার সময়ে উপস্থিত থাকা ইঞ্জিনিয়ার রবিনের বন্ধু সরকার সজল মাহমুদ বলে, ওদের কাউকে সুস্থ মনে হয়নি। প্রথম থেকে তাঁরা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ব্যবহার করছিলো। তাঁরা যেভাবে বিভিন্ন অস্ত্র টাইপ সরঞ্জাম নিয়ে হামলা করছে তা খুবই ভয়ংকর ছিলো। এছাড়া তাঁরা শুনলাম বিভিন্ন জায়গায় মিট আপের নাম করে মানুষের কাছ থেকে অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের কে এখনি দমন না করা গেলে এরা এক সময় সন্ত্রাসী বাহিনী তে পরিণত হবে। তাই তিনি প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহব্বান জানায় যাতে এই লাইকি ব্যবহারের নামে কোন নৈরাজ্য কেউ জানি করতে না পারে।