• ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে বসে মাদকের হাট,  কিশোর-কিশোরীরা মূল টার্গেট

দখিনের সময়
প্রকাশিত মে ২৩, ২০২১, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ফেসবুকে বসে মাদকের হাট,  কিশোর-কিশোরীরা মূল টার্গেট

দখিনের সময় ডেক্স:

ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্ত ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে  চিকিৎসাধীন রত্না। বন্ধুদের কুপরামর্শে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই ঘুমের ওষুধ সেবনে জড়িয়ে পড়ে। এরপর অনলাইন গেমে আসক্তি। ফেসবুক গ্রুপ করে সেখান থেকে ছেলেবন্ধু এবং মদ-বিয়ারের পার্টিতে যোগ দেয়। অল্প বয়সে প্রেম এবং বিরহ। কিশোরী কন্যা রত্নাকে নিয়ে পরিবার দিশাহারা। উপায়ান্ত না পেয়ে তাকে ভর্তি করানো হয় একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে।

মাদকগ্রহণের অতীত স্মৃতি টানতে গিয়ে সে বলে, ফেসবুকে তার বিভিন্ন বয়সী বন্ধু ছিল। একাকিত্বের কষ্ট লাঘবে তারা মেসেঞ্জারে ঘুমের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেয়। কথামতো ঘুমের ওষুধ থেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ে এ কিশোরী। এরপর অল্প বয়সে প্রেমে জড়ায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের সঙ্গে। প্রেমিকের বিষয়ে সে বলে, ‘আসলে ও আমাকে ভালোবাসেনি। টাকা নেওয়ার ফাঁদ পেতেছিল কেবল। আড়াই বছরে বাবার ড্রয়ার থেকে চুরি করে আড়াই লাখ টাকা ও মায়ের স্বর্ণালঙ্কার তুলে দিই সেই বয়ফ্রেন্ডের হাতে। একপর্যায়ে বুঝতে পারি সে টাকা ছাড়া কিছুই বোঝে না। তখন তার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে ফেলি। সেই কষ্ট ও জেদের বশে মাদকে জড়িয়ে পড়ি।’

ওই কিশোরী বলে, ‘আমার মানসিক অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে বাবা কান্নাকাটি করতেন আর আমি হাসতাম। আমাকে সঠিক পথে আনতে ওই শিশু বয়সেই বিয়ে দিতে চাইতেন। আমি তখনো ভালো-মন্দ অনুভব করতে পারতাম না। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি ফেসবুক কিংবা কিছু বন্ধুর প্ররোচণায় আমি এক অন্ধকার জীবনে ছিলাম।’

কেবল রত্না নয়; এটি একটি উদাহরণ মাত্র। তথ্যমতে, মাদকগ্রহীতাদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাতা বন্ধুদের ফাঁদে পড়ে অন্ধকারে পা রাখে। পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রধান উম্মে জান্নাত বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিশুদের (আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে) মধ্যে ইয়াবা গ্রহণের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এরা ফেসবুক, টিকটক, লাইকি থেকে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে গিয়ে লাইভ চ্যাট করে। এই গ্রুপে ঘাপটি মেরে থাকা চক্র তাদের জন্য মদ, ইয়াবা, সিসাবারে পার্টির আয়োজন করে থাকে। ওইসব গ্রুপ থেকে মাদকের হোম ডেলিভারিও দেওয়া হচ্ছে এখন। এসব গ্রুপের ১৪ থেকে ১৫ বছরের সদস্যরা প্রেম থেকে অনৈতিক কাজেও জড়িয়ে পড়ছে।’