• ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীকে মারধর, স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

দখিনের সময়
প্রকাশিত জুলাই ১, ২০২৫, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ণ
স্বামীকে মারধর, স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
দখিনের সময় ডেস্ক:
স্বামীকে মারধরের পর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শ্রমিক দল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে এ ঘটনা ঘঠেছে বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তজুমদ্দিন উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, ফরিদের সহযোগী আলাউদ্দিন, তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো .রাসেলসহ ৬-৭ জনের নাম আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মামলা দায়েরের পর নামে মামলার বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
রোববার (২৯ জুন) দুপুরে তজুমদ্দিন উপজেলার শহরের চাঁদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামারপট্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (৩০ জুন) মামলা দায়েরের পর রাত পৌনে ১০টার দিকে ভুক্তভোগী নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী অভিযোগ করেন, আমার দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের সঙ্গে কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলে আসছে। প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করি (ধর্ষণের শিকার) এবং ছোট স্ত্রী ঝর্ণা তজুমদ্দিনে বসবাস করে। কিছুদিন আগে আমি প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেলে কথা বলার জন্য শনিবার রাতে ফোন করে তজুমদ্দিন বাজার এলাকায় তার বাড়িতে যেতে বলেন দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা। সেখানে পৌঁছানোর পর শ্রমিক দল নেতা ফরিদ উদ্দিন, তার সহযোগী আলাউদ্দিন, ছাত্রদল নেতা রাসেলসহ ৫-৭ জন আমাকে আটকে মারধর করে। এ সময় দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা আমার সাথে সংসার করবে না বলে তারা আমার কাছে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না পেয়ে আমাকে আটকে রেখে এসএস পাইপ দিয়ে মারধর করে। খবর পেয়ে রোববার বেলা ১১টার দিকে আমার প্রথম স্ত্রী সেখানে পৌঁছে তাদেরকে কিছু টাকা দেন। তাদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা কম হওয়ায় তারা আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার প্রথম স্ত্রীসহ আমাকে ফের মারধর করে দুজনকে ওই ঘরে আটকে রাখে।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী আরও বলেন, ওইদিন দুপুরে তাদের কয়েকজন ওই ঘর থেকে বের করে তাকে দোকানে চা খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি সন্দেহ হলে ফিরে এসে দেখা যায় ঘরটির দরজা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বাহির থেকে অনেকক্ষণ জোরে জোরে দরজা ধাক্কা দিলে ভেতর থেকে একজন বেরিয়ে দরজা খোলে। ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, প্রথম স্ত্রী কাদছে। পরে জানা যায় তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে আসামিরা। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ উদ্ধার করে তজুমদ্দিন থানায় নেয়।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.আমিনুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে ভুক্তভোগী ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।