দ্বীপজেলা ভোলার চারটি সংসদীয় আসনের বেসরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। ঘোষিত ফলাফলে জেলার তিনটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে ভোলা সদর আসনে গরুর গাড়ি প্রতীকের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে চমক দেখিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ আসনে ছিল একতরফা ভোটের চিত্র, তবে কিছু কেন্দ্রে দেখা গেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। ভোট গণনা শেষে বিজয়ীদের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস ও মিছিল করতে দেখা গেছে।
ভোলা-১ (সদর) আসনে বেসরকারীভাবে বিএনপি সমর্থিত বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ গরুর গাড়ী প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১০৪৪৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে তিনি ২য় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।
অপরদিকে তার নিটকতম প্রতিদ্বন্ধী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত ইসলামী মনোনীতি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ৭৩৭৭৩ পেয়েছেন। বেসরকারীভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ৩০ হাজার ৬শ ৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় লাভ করেন।
ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, জনগনের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা পেয়েছি। তারা আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এই বিজয় ভোলাবাসীর বিজয়। তারা আমাকে বিজয়ী করে যে সম্মান দেখিয়েছেন আমি তার মর্যাদা রাখবো। ভোলাবাসীর উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো।
ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন): শক্ত লড়াই শেষে ধানের শীষের জয়। ধানের শীষ প্রতীকের আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম পেয়েছেন ১,২১,০০৫ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুফতি ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩,৪৯৮ ভোট। তিনিও ২৭,৫০৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পেলেও এই আসনে তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে।
ভোলা-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)। তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে মেজর হাফিজ সপ্তমবারের মতো ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলীয় জোটের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম ফুলকপি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্টদের দেওয়া তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিজয়ী প্রতিক্রিয়ায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, এই বিজয় আমার একার নয়, এটি লালমোহন-তজুমদ্দিনের মানুষের বিজয়। আগামীতে মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমি আপসহীন থাকবো।
ভোলা-৪ (মনপুরা-চরফ্যাসন) সংসদীয় আসনে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য হলেন কেন্দ্রীয় যুবদল সম্পাদক ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মনপুরা উপজেলার ২৪টি কেন্দ্র ও চরফ্যাসন উপজেলার ১৩০টি কেন্দ্রে ঘোষিত ফলাফলে ১২৩৩৪৫ (এক লক্ষ তেইশ হাজর তিনশত পঁয়তাল্লিশ) ভোট বেশি পেয়ে নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালকে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
দুই উপজেলার সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল ও কেন্দ্র থেকে দলীয় এজেন্টেদের প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় যুবদলের সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ১৫৪ কেন্দ্রে পেযেছেন দুই লক্ষ সতের হাজার একশত নববই ভোট (২১৭১৯০)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ দলীয় জোট প্রার্থী দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল পেয়েছেন তিরানব্বই হাজার আটশত পঁয়তাল্লিশ (৯৩৮৪৫) ভোট।
মনপুরা উপজেলায় ২৪ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন পেয়েছেন ২৮১৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী পেয়েছেন ১১৫২৭ ভোট।
এদিকে চরফ্যাসন উপজেলায় ১৩০ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী যুবদল সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন পেয়েছেন ১৯০০০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮২৩১৮ ভোট।
মনপুরা উপজেলা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আবু মুছা ও চরফ্যাসন উপজেলার সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই ফলাফল ঘোষণা করেন।