১৫ আগস্ট প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে বৌসের হাটে: জাকির চৌধুরী
দখিনের সময়
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২০, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন...
স্টাফ রিপোর্টার॥
আগস্টের থিংকট্যাংক নানান অপপ্রচারে সাথে সুদূর প্রসারী একটি অপপ্রচার চালিয়েছে। তা চচ্ছে, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের কেউ প্রতিবাদত করেনি। কিন্তু এটি ছিলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। নির্মম এই হত্যকান্ডের প্রতিবাদ হয়েছে সারাদেশে। জাকির চৌধুরী তাঁর স্মৃতি এবং পরবর্তীতে স্বজনদের স্মৃতিচারণ থেকে জানিয়েছেন, সেই সময় প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বৌসের হাটেও প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান জাকির চৌধুরী দৈনিক দখিনের সময়-এর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, তখন আমার বয়স ৫/৬ বছর। আমার স্পষ্ট মনে আছে সেদিন আমাদের বাড়ির পাশে প্রতিবাদ মিছিল হতে দেখেছি। এইটুকু আমার নিচের স্মৃতিতে আছে। পরে স্বজনদের কাছে শুনেছি, বরিশাল শহর এবং ঢাকার খবর পাবার পর প্রতিবাদকারীরা আর মাঠে থাকার সাহস পায়নি। প্রতিবাদের কোন নেতৃত্ব সামনে না আসায় এক পর্যায়ে শোকাহত মানুষ হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেয়।
মিজানুর রহমান জাকির চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার খবরে বাঙালি জাতি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলো। ঐদিন ১৫ ই আগস্ট সকাল ১১ টার পরে যখন বরিশালে সর্ব জায়গায় এই হত্যার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে তখন তার প্রতিবাদে বরিশালের পশ্চিমে কড়াপুর বৌসের হাটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হতে থাকেন। তখন আমার শ্রদ্ধেয় চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ চৌধুরী বৌসের হাটে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কসে সবাইকে নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর আওয়ামী লীগের নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মজিদ তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার আলী খন্দকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম ইউসুফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মান্নান সিকদার এরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করেন বৌসের হাটে। উক্ত মিছিল করার খবর ছড়িয়ে পড়ার কারণে তখন সুলতান আহমেদ চৌধুরীসহ এদেরকে বিভিন্ন সময়ে হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে।
রাজনীতিক ও সমাজ সেবক মিজানুর রহমান জাকির চৌধুরী বরেন, আজ ও দীর্ঘ ৪৫ বছর পরেও যখন ১৫ ই আগস্ট আসে তখনই সেই সকল শ্রদ্ধেয় বীরমুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণনাকৃত স্মৃতি গুলো আমাকে নাড়া দেয়। তিনি বলেন, আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পুলিশ অফিসার আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বলতেন, বঙ্গবন্ধুর জন্যই স্বাধীন বাঙালি জাতির জন্ম হয়েছে। সেই নেতাকে কখনো ভুলার নয় তার আদর্শ ধরে রাখাই হবে বাঙালি জাতির জন্মের ইতিহাস কে লালন করা। আজও বাবার কাছে শোনা স্মৃতি আমি আমার পরিবার লালন করে যাচ্ছি। আজও বলি ‘হে পিতা মুজিব তোমার আদর্শই আমার জীবনের একমাত্র অহংকার।’
জাকির চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিশ্বাস ঘাতক এবং বাংলার স্বীকৃত শত্রুরা এই মহান নেতাকে সপরিবারে হত্যা করলো। খুনীরা কেবল বঙ্গবন্ধুকে নয় তারা হত্যা করে কৃষক কুলের নয়নমণি বরিশালের কৃতিসন্তান সাবেক মন্ত্রী দক্ষিণ বাংলার রূপকার আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাতসহ তার শিশুসন্তান সুকান্ত বাবু, ভাই ও বোনকে ও তারা ছাড়েনি। যা ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যা, এভাবেই মন্তব্য করেন অওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান জাকির চৌধুরী।