• ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ, তিনিই মানচিত্র: মো: মাহতাব উদ্দিন

দখিনের সময়
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২০, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ, তিনিই মানচিত্র: মো: মাহতাব উদ্দিন
সংবাদটি শেয়ার করুন...
একটি হত্যা নিছক একটি মৃত্যু নয়। রাষ্ট্রীয় আইনে হত্যার শাস্তি নির্ধারণ করা আছে। একটি হত্যায় যে অপরিমেয় রোদন নির্ঝরিণীর মত বহমান হতে হতে পদ্মা মেঘনা যমুনার স্রোতধারা অপেক্ষা অধিক অশ্রু বয়ে যায় তার সমপরিমাণ শাস্তি কি কেউ দিতে পারে? আবেগ অনুভূতি প্রেম ভালবাসা কোন পুস্তকের সীমাবদ্ধ বিধানে সীমায়িত করা যায়? তবু শাস্তি হয়। শাস্তি দিতে হয়। একটি ছোট বৃক্ষের কতুটুকু ব্যাপি শিকড় শাখা প্রশাখা বিস্তার ঘটে? একটি বৃক্ষ মহীরূহ হয়ে উঠলে কত কিলোমিটার ব্যাপি তার শাখা প্রশাখার বিস্তার ঘটে? বঙ্গবন্ধু ছিলেন মহীরূহ। তার বিস্তার ৫৬০০০ বর্গমাইল ব্যাপি। এই মহা মহীরূহে আঘাত করায় কেঁপে ওঠে ৫৬০০০ বর্গমাইল। ওলট পালট হয়ে যায় পৃথিবীর বায়ুমন্ডল ও মৃত্তিকায়।
আলেন্দে বলেছিলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি মুজিব কে দেখেছি”। তিনি তো হিমালয় অপেক্ষো বৃহৎ এক স্থাপনার ঊর্ধের মানুষ। পর্বতের মুশিকরা ধৃষ্টতা দেখাল সেই মানুষকে আঘাত করার। আসলে পশু যখন মানুষকে আঘাত করে সেটা তার প্রবৃত্তির বশেই করে। সেখানে পরিণতি চিন্তার স্থান নেই । জঘন্য পশুরা ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট সংঘবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের স্রষ্টার বুকে গুলি করেছিল। ভেবে দেখেনি বাংলাদেশ সৃষ্টি কি ভাবে হলো- কত ঘাম, রক্ত, নির্ঘুম রাত কেটেছিল, কত দিন, মাস, বছর কারান্তরালে কাটাতে হয়েছিল। কবর সামনে নিয়ে সেলে বসেছিলেন সিদ্ধান্তে অনড়, বাংলাদেশ হবে।
আপোষ নেই, ভয় নেই, লোভ নেই, মোহ নেই, ক্লান্তি নেই; বিপরীতে আছে স্বপ্নের বাংলাদেশ। মুজিব একদিনে সৃষ্টি হয়নি। ১৯৪৩ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন পর্যন্ত তিনি স্বীয় দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেন। ১৯৪৬ সনে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় তিনি নিজের জীবন বাজী রেখে হিন্দু মুসলমানের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন ১৯৪৭ সালে। শান্তিমিশন চলাকালে তিনি সোহরাওয়ার্দির সাথে স্বাধীন বাংলা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৪৮ সনে ৪ জানুয়ারী পুর্বপাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ প্রতিষ্ঠা করেন । রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ ফজলুল হক হলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং ১১ মার্চ ধর্মঘট পালন কালে গ্রেফতার হন। ১৯৪৭ সনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন এবং মন্ত্রিসভা গঠন করেন। ৫৫ সালে দলের নামকরণ করেন আওয়ামীলীগ। ৫৬ সালে খান আতাউর রহমান মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা এক নতুন দিগন্তের সুচনা করে । এর মাধ্যমে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ বপণ করেন ।
১৯৬৯ এ গণঅভ্যূত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭২ এর সংবিধান – এত কিছুর পর রাতের আঁধারে একদল পথভ্রষ্ট, নীতিহীন, হিংস্র মানুষ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে পার পেয়ে যাবে ? সেটা ভাবাই ছিল অমূলক ।
২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারী মৃত্যু দন্ডাদেশ প্রাপ্ত ১২ খুনির মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
সর্বশেষ ফাঁসি কার্যকর করা হয় আবদুল মাজেদের; ১২ এপ্রিল ২০২০ তারিখে ।
বাংলাদেশের মানুষ জাতির পিতা হত্যার বিচার পেয়েছে, যা চরম স্বস্তির । তিলে তিলে শেখ মুজিবের বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা, জাতির জনক হওয়া, তাঁর অনবদ্য কর্মের স্বীকৃতি। জাতি আজ ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে এই মহান মানুষটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। তিনিই মানচিত্র, তিনিই বাংলাদেশ ।
বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, সংগ্রাম বাংলাদেশের প্রতিটি ধূলিকণার মাঝে তাঁর স্বাক্ষর রেখে গেছেন। প্রতিটি জলকণায়, বৃক্ষের পত্রপল্লবে মর্মর ধ্বনি ওঠে। শোকের নিরুচ্চারে ও সোচ্চারে জয়ধ্বনি করে বঙ্গবন্ধুর। কৃতজ্ঞ বাঙলি জাতি বঙ্গবন্ধুর কাছে আজীবন। তিনি দিয়েছেন দেশ, তিনি দিয়েছেন সম্মান। বিশ্বকে চিনিয়েছেন বাংলাদেশ । বীর বাঙালির সাহস, শ্রম, তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির কৃতজ্ঞ হওয়া উচিৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। তিনি ভয় ভীতি উপেক্ষা করে অসীম সাহস দেখিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।
লেখক: অধ্যক্ষ, সরকারি কদম রসুল কলেজ, নারায়নগঞ্জ।