• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৫ আগস্টের প্রতিবাদ হয়েছে সারাদেশে: দমন করা হয় কঠোরভাবে

দখিনের সময়
প্রকাশিত আগস্ট ১৩, ২০২০, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
১৫ আগস্টের প্রতিবাদ হয়েছে সারাদেশে: দমন করা হয় কঠোরভাবে
সংবাদটি শেয়ার করুন...
আলম রায়হান:
আগস্টের থিংকট্যাংক নানান অপপ্রচারে সাথে চালিয়েছে সুদূর প্রসারী একটি অপপ্রচার। তা হচ্ছে, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের কেউ প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু এটি ছিলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। নির্মম এই হত্যকান্ডের প্রতিবাদ হয়েছে সারাদেশে। বরিশাল, বরগুণা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, খুলনা, যশোর, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁওসহ বিভিন্ন জায়গায় ১৫ই আগস্ট সকালেই প্রতিবাদ মিছিল-সমাবেশ হয়। আর সারাদেশের প্রতিবাদ দমনের জন্যও প্রস্তুতিও ছিলো ষড়যন্ত্রকারীদের। প্রতিবাদকারীদের দমন করা হয়েছে কঠোরভাবে।
১৫ আগস্ট ভোরে বরিশালে সেই সময়ের ছাত্র নেতা খান আলতাফ হোসেন ভুলুসহ কয়েক জনের নেতৃত্বে যে প্রতিবাদ মিছিল বের হয় সেটি আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে খুনী মোশতাকের পক্ষের মিছিলের সামনে পড়ে হামলার শিকার হয়। কাদের সিদ্দিকী প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেন টাঙ্গাঈলে। তাকে দেশছাড়া করা হয়েছে একাধিক যুদ্ধের মধ্যদিয়ে। সারা দেশে প্রতিবাদ কিভাবে দমন করা হয়েছে তার এটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে। ১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট বরিশালে হরতাল আহবান করায় পুরো বিএম কলেজ ঘেরাও করে তাঁকে অনেক দূর তাড়া করে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর উপর সারা রাত থানায় এমন অত্যাচার চালানো হয়েছে যে. জেলে তাকে চিনতে পারেনি অন্যান্য হাজতীরা। যারা তার বহু দিনের পরিচিত ছিলো।
বঙ্গ বন্ধু হত্যার পর প্রথম প্রতিবাদ হয় বরগুনায়। মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব মৃধা বরগুনা তৎকালীন এসডিও সিরাজ উদ্দিন আহমেদের সহায়তায় ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীর ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরবর্তীতে এতে বরগুনার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যোগ দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।
মুফতি নূরুল্লাহ জুমার নামাজের খুতবায় ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেন। আগস্ট মাসেই চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্ররা প্রতিবাদ করে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৌলভী সৈয়দ, ছাত্রনেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী এবং পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের নেতা এস.এম. ইউসুফ প্রতিরোধ করতে শুরু করেন।
১৮ই অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন। ২০ অক্টোবর প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৭ হাজার মুজিব ভক্তকে ৭টি ফ্রন্টে ভাগ করে ২২ মাস প্রতিরোধ যুদ্ধ করেছেন। এতে ১০৪ জন যোদ্ধা নিহত এবং কয়েকশ আহত হয়। এর মাঝে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলার ৫০০ তরুণের শেরপুরের ৫০০ প্রতিবাদীর বিদ্রোহ ও লড়াই বেশ আলোচিত।
প্রতিবাদ করায় ১৯৭৬ সালের ১৮ আগস্ট মুক্তাগাছার প্রতিবাদী ৫ মুক্তিযোদ্ধা জাবেদ আলী, নিখিল দত্ত, সুবোধ ধর, দিপাল দাস, মফিজ উদ্দিনকে সেনা অভিযানে হত্যা করা হয়। বেঁচে যাওয়া বিশ্বজিৎ নন্দী নামে কিশোর যোদ্ধাকে আটক করে ১৯৭৭ সালের ১৮ মে সামরিক আদালতে ফাঁসির দন্ড দেওয়া হয়। প্রভাবশালী বিশ্বনেতার প্রভাবে তাকে যাবজ্জীবন দেয়া হয় এবং তিনি ১৯৮৯ সালে মুক্তি পান।
১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কেবল শহর বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিলো না। এ প্রিতবাদ হয়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। দৈনিক দখিনের সময়-এর বরিশাল সদর উপজেলার ১নং রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাকির চৌধুরী তাঁর স্মৃতিচারনে এ,ন এক চিত্র ফুটে উঠেছে। সে সময় তার ইউনিয়নের বৌশের হাট ছিলো প্রত্যন্ত অঞ্চল। সেই বৌসের হাটেও ১৫ আগস্ট প্রতিবাদ মিছিল-সমাবেশ হয়েছে।