দখিনের সময় ডেস্ক:
ক্যানসার রোগীদের জন্য ব্যায়ামের উপকারিতা নিয়ে একের পর এক গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। ব্যায়াম নিয়ে ওই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন অনকোলজিস্ট ডা. ক্রিস্টোফার বুথ। তিনি কানাডার অন্টারিওর কিংস্টনে কুইন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। ডা. বুথ বলেন, ‘এতটা উপকার করে এমন কোনো ওষুধ থাকলে সেটি সঙ্গে সঙ্গেই নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হয়ে যেত। বিমা কোম্পানিগুলোও এর খরচ দিত।’
পরিকল্পিত ব্যায়ামে চিকিৎসার ফল ভালো হতে পারে, কমতে পারে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিও। কিন্তু রোগীদের জন্য এমন ব্যায়াম কর্মসূচির সুযোগ এখনো খুবই সীমিত। পিটসবার্গে নিজের বাড়ির বেসমেন্টে বসে আইপ্যাড চালু করলেন লি কোলকার। অনলাইনে যোগ দিলেন একটি ব্যায়াম সেশনে। অপর প্রান্তে ছিলেন অলিভিয়া মাস্টেন। ক্যানসার রোগীদের ব্যায়াম করানোয় বিশেষজ্ঞ এই প্রশিক্ষক। লি কোলকারের বয়স এখন ৬৬ বছর। এ বছর মেটাস্ট্যাটিক কিডনি ক্যানসারের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার পর থেকে হঠাৎ ক্লান্ত হয়ে পড়তেন তিনি। চিন্তাভাবনা ও মনোযোগেও সমস্যা হচ্ছিল। ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টারের কর্মীরা কোলকারকে জানান, ব্যায়াম করলে তাঁর কর্মশক্তি বাড়তে পারে। শুনেই সুযোগটি নেন কোলকার। তিনি বলেন, ‘এ কথাটাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল।’
ব্যায়ামের সুফল স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্যানসার রোগীদের ব্যায়ামে যুক্ত করার উদ্যোগ বাড়ছে। কোলকারও এমনই একটি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণাগুলোতে অনেক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, ব্যায়াম ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। স্তন ক্যানসারের রোগীদের ক্ষেত্রে এর সুফল বেশি দেখা গেছে। গত বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল্ড ট্রায়ালে আরও শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়। গবেষণায় কোলন ক্যানসারের একদল রোগী তিন বছর ধরে একজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিতভাবে ব্যায়াম করেন। তাঁদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কম ছিল। জীবনযাত্রার মানও ভালো ছিল। ব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোগীদের ৯০ শতাংশ আট বছর পরও জীবিত ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ দলের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮৩ শতাংশ।
পরে আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার খরচও কমে। একজন রোগীর জন্য পুরো কর্মসূচিতে খরচ হয় ৩ হাজার ডলার। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার গবেষক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ডা. স্কট র্যামসে এই ফলাফলকে ‘দারুণ সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। ক্যানসারের চিকিৎসায় একসঙ্গে এমন সুফল পাওয়া বিরল। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের নতুন ওষুধ ডারাক্সোনরাসিবের কথাই ধরা যাক। ওষুধটি ব্যবহারে বছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার খরচ হয়। এর বেশ কিছু অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। এটি রোগীর আয়ু কয়েক মাস বৃদ্ধি করতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি করে না।