• ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পুত্রবধূর গর্ভের বাচ্চা নষ্টের অভিযোগ

দখিনের সময়
প্রকাশিত জুলাই ১৭, ২০২১, ০৭:১২ পূর্বাহ্ণ
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পুত্রবধূর গর্ভের বাচ্চা নষ্টের অভিযোগ

দখিনের সময় ডেস্ক:

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে লাথি মেরে বাচ্চা নষ্ট, গর্ভপাত এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার পুত্রবধূ মাধবী আক্তার নীলা। একই সঙ্গে তার মেয়েকে জোরপূর্বক কানাডা পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। রাজধানীর মিরপুরের আরামবাগে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফের ছেলে মোয়াজ আরিফের স্ত্রী নীলা।

সংবাদ সম্মেলনে মাধবী আক্তার নীলা বলেন, এ এফ হাসান আরিফের ছেলে মোয়াজ আরিফের সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-সন্তান নিয়ে আমি সুখেই ছিলাম। বর্তমানে আমার বড় মেয়ের বয়স দুই বছর। সুখের সংসারে সমস্যা শুরু হয় আমার বড় সন্তানকে নিয়ে। আমার শ্বশুর ও শাশুড়ি আমার বড় মেয়েকে কানাডায় তাদের মেয়ের কাছে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমার ননদের কোনো সন্তান না থাকায় তারা আমার সন্তানকে কানাডা পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি রাজি হইনি। এরপর থেকেই আমার ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু হয়। আমি দুই সন্তানের জননী। তবে এর আগে গত বছর অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় আমার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমার পেটে লাথি মেরে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তিতে সহায়তা করে। সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার ডিএনসি করে।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফের পুত্রবধূ নীলা অভিযোগ করেন, অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেই আমি আবার তৃতীয়বারের মতো অর্থাৎ গত বছরের অক্টোবরে অন্তঃসত্ত্বা হই। তৃতীয়বারের মতো আমার অন্তঃসত্ত্বার খবর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি জানার পরই গর্ভপাত করতে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু আমি কোনোভাবেই তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। এক পর্যায়ে তারা আমাকে বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে জোর করেন। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির নির্দেশে আমাকে সেদিন অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন স্বামী মোয়াজ আরিফ। নির্যাতনের সময় আমি ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম।

এর আগে গত জুন মাসে নির্যাতন, ভ্রুণ হত্যা ও দুই বছরের সন্তানকে আটকে রাখার অভিযোগে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফের ছেলে মোয়াজ আরিফের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নীলা। রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি দায়ের করেন তিনি। যদিও সে সময় এসব অভিযোগ করেন মোয়াজের বাবা হাসান আরিফ। তিনি দাবি করেছিলেন, নীলা স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে মোয়াজকে বিয়ে করেছেন। এটি তার চতুর্থ বিয়ে। তাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইলে সাড়া দেননি নীলার স্বামী মোয়াজ আরিফ। তবে তার বাবা হাসান আরিফ তার মুখপাত্র অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমানের মাধ্যমে জানান, নীলার প্রতিটি অভিযোগ মিথ্যা। এ বিষয়ে রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেছিলেন, ঘটনার সত্যতা সাপেক্ষে আসামি আইন আমলে আসবে। এবং যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সব নেওয়া হবে।