অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট
দখিনের সময়
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ছবি: সংগৃহীত
সংবাদটি শেয়ার করুন...
দখিনের সময় ডেস্ক:
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় দেশজুড়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে—এমন বাস্তবতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। সরকার অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখনো এর একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, এই বিপুল অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ উসমান হাদির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা এই আশঙ্কাকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। রিটে বলা হয়, সরকার কিছু প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই অবস্থায় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের ‘জীবনের অধিকার’-এর গুরুতর লঙ্ঘন হবে। তাই এসব অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।